গানে গানে জলবায়ুর বার্তা

রাবি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইউরিচের’ ব্যতিক্রমী গম্ভীরা আয়োজন

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তীব্র তাপদাহ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ তুলে ধরতে গম্ভীরা গানের আয়োজন করেছে ‘ইউরিচ’ (ইয়ুথ ইন রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ)। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের সংগঠনটি গানের ছন্দে ও নাটকের মাধ্যমে জলবায়ুর বাস্তবতা তুলে ধরে সচেতনতা সৃষ্টির বার্তা দিয়েছে।

সম্প্রতি রাজশাহীর কাকনহাট রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় আঞ্চলিক ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা গানের মাধ্যমে এই সচেতনতামূলক আয়োজন করা হয়।

‘গ্রিন ভয়েসেস’ প্রজেক্টের সহযোগিতায় আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে এলাকার আবাল-বৃদ্ধ- বনিতাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এই দিন বিকেল গড়াতেই কাকনহাট রেলওয়ে স্টেশন এলাকা জনসমাগমে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত গম্ভীরা গানে নানা-নাতির কৌতুকপূর্ণ কথোপকথনের ছলে তুলে ধরা হয় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা সংকটের কথা। রসিকতাপূর্ণ খুনসুটির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পরিবেশনায় একপর্যায়ে উঠে আসে ইউরিচ সংগঠনটির পরিচিতি ও এর গবেষণাধর্মী কার্যক্রমের কথাও।

এরপর গানে গানে সতর্ক করা হয়, তীব্র তাপপ্রবাহ (হিট ওয়েভ) অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। এ থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত পানি পান, রোদে ছাতা ব্যবহার এবং যতটা সম্ভব ছায়াযুক্ত পথে চলাচলের ওপর জোর দেওয়া হয় পরিবেশনায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরম থেকে রক্ষা পেতে সবাই মিলে বৃক্ষরোপণ এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানানো হয় গানের কথায়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের জীবন বাঁচাতে সবাইকে একযোগে সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়ে সালাম জানিয়ে বিদায় নেন শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে আগত শ্রোতা ফারুক মিয়া বলেন, গম্ভীরা গান সেই ছোটবেলা শুনছিলাম, দীর্ঘদিন পর আবার শুনলাম। গানে-গানে এই এলাকার তাপ নিয়ে সুন্দর উপস্থাপনা করেছে নানা-নাতি।

ইউরিচের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক বলেন, গম্ভীরা আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল, গম্ভীরা মূলত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের আঞ্চলিক গান, যা এই সমাজের মানুষ খুব সহজেই উপলব্ধি ও গ্রহণ করতে পারে। এই গানের মাধ্যমে আমরা এই অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট তাপদাহ, পানি সংকট, খরার মতো সমস্যাগুলো তারা কীভাবে মোকাবিলা করবে, সেই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।