জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, আওয়ামী লীগ তাদের ১৭ বছরের দুঃশাসনে বাংলাদেশকে শূন্য ঝুঁড়ি বানিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের কোন ক্ষমা নেই।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে নাটোর জেলা পরিষদ চত্তরে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজের সভাপতিত্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক ও অসহায় দুস্থ রোগীদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুলু বলেন, আওয়ামী জমানায় দলের নেতাকর্মী ও ফ্যাসিষ্ট হাসিনার আত্বীয় স্বজনদের লুটপাটের সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশে বড় বড় মেগা প্রকল্প নেওয়া হতো। আর সেই প্রকল্পে লোক দেখানো কাজ করে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে। দেশের বাহিরে বাড়ি গাড়ি ব্যাংক ব্যালেন্স করেছে। এখন আর এসব চলবে না। সরকারি টাকা যে মেরে খাবে তাকে জেলে পাঠানো হবে।
দুলু বলেন, নাটোরের মাটিতে আর কোন সন্ত্রাসী চাঁদাবাজের জায়গা হবে না। নাটোরে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। শিক্ষিত বেকার যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
দুলু আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী নেতারা পাশের দেশে বসে ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশের জনগণ ও দেশের সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তাদের অপতৎপরতা সর্ম্পকে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতন ও তাদের জমিজমা বাড়ি দখলের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি সরকার দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিজেদের আমানত মনে করে নিরাপত্তার সাথে যত্নে রেখেছে। তারপরও ভারতে বসে থাকা হাসিনার দোসরেরা মিথ্যা প্রচার করে এই দেশে নাকি সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রংপুরে হিন্দু দুই যুবকের হাতে হিন্দু অপর শিক্ষক পরিবারের চারজন খুনের ঘটনাকে তারা সংখ্যালঘু নির্যাতন বলে পানি ঘোলা করে মাছ শিকার করতে চাইছে। বাংলাদেশের মানুষ সব সময় আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র বিষয়ে অবগত আছে। তাদের যে কোন হীন ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম, জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিবার্হী মো. পারভেজুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম আফতাব, নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজী শাহ আলম ও এমদাদুল হক আল মামুন এবং জেলা যুবদল সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম প্রমুখ।