রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন নাগরিকরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে রংপুর মহানগর স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন এই দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের সকলকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনা প্রমাণ করে রংপুরসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক। এ ঘটনায় দুইজনকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ গণমাধ্যমে পুরো হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে যে বক্তব্য উপস্থাপন করে সেটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন, সংশয় ও আস্থাহীনতার জন্ম হয়।’
তিনি বলেন, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ চার খুনের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হওয়া জরুরি। এজন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। যাতে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বিজয় প্রসাদ তপু, বীথি দাস নন্দিনী, মাহফুজ হোসেন, মসিউর রহমান, সবুজ রায়, মেহেদী হাসান তরুণ।
গত সপ্তাহে রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক জনপ্রিয় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), কনিষ্ঠ কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থি (২৫) এবং ছোট ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়মকে (১২) নিজ বাসভবনে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ২২ আগস্ট রাতে পুলিশ খবর পেয়ে ওই বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষকের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই আরপিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ডিবির একটি বিশেষ দল মাছুয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলামের আদালতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে ওই দুজন।
সবশেষ জনগুরুত্বপূর্ণ এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব কোতোয়ালি থানা থেকে আরপিএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়।