ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে একটি বড় ধরনের তেল চুক্তিতে উপনীত হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে দেশটির প্রমাণিত মজুদের ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুদের ওপর নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শনিবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বিষয়টি নিশ্চিত করে চুক্তিটিকে ট্রাম্প ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেলচুক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুদ দ্বিগুণের বেশি হবে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে। আর এই চুক্তি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ।
ট্রাম্প বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ‘বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে’ রদ্রিগেজের সঙ্গে এ চুক্তিতে পৌঁছেছেন। এ লেনদেন ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইতিমধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। মার্কো রুবিও বলেন, এ চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে। এতে দেশটিতে উচ্চ বেতনের হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি আনবে। তবে এসব কীভাবে হবে, তা নিয়ে রুবিও বিস্তারিত কিছু জানাননি। তার দাবিÑ ট্রাম্পের সাহসী পররাষ্ট্রনীতি কীভাবে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সাফল্য বয়ে আনছে, এ চুক্তি তার প্রমাণ। এ নীতি আমাদের গোলার্ধের ভেতরেই স্থিতিশীল তেল মজুদ ও কম দামে তেল পাওয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম কমিয়ে আনবে।
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর থেকেই প্রকাশ্যেই দেশটির তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তার তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে শর্ত ছিল, তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এরপর থেকে ভেনেজুয়েলা সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র চাপ ও কড়া নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, দুই দেশ এক ডজন উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করছিল। এসব তেলক্ষেত্রে ৯ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে যাওয়ায় তা ট্রাম্প প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে চলতি বছর নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। কারণ, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, আর এতে দেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমছে।