হাঁটু ব্যথায় আকুপ্রেশার চিকিৎসা

মনোজ মাহমুদ

      রিফ্লেক্সোলজিষ্ট ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

হাঁটু শরীরের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্টগুলোর একটি। হাঁটুতে ব্যথা হলে হাঁটা, বসা, সিঁড়িতে ওঠা-নামা বা দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা হতে পারে।

কারণ

          বয়সজনিত ক্ষয় : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুর তরুণাস্থি ক্ষয় হতে থাকে। অতিরিক্ত হাঁটলে বা সিঁড়িতে ওঠা-নামার সময় ব্যথা বাড়ে।

          আঘাত বা দুর্ঘটনা : পড়ে যাওয়া, খেলাধুলার আঘাত বা দুর্ঘটনার কারণে লিগামেন্ট, টেন্ডন বা মেনিস্কাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

          অতিরিক্ত ওজন : শরীরের অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি হলে, ধীরে ধীরে ব্যথা ও ক্ষয় বাড়তে পারে। 

          রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস : অটোইমিউন রোগ, হাঁটুতে প্রদাহ, ফোলা ও ব্যথা সৃষ্টি করে।

          গাউট বা ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি : ইউরিক অ্যাসিডের স্ফটিক জয়েন্টে জমে তীব্র ব্যথা ও ফোলা সৃষ্টি করতে পারে।

          টেন্ডিনাইটিস : টেন্ডনে প্রদাহ হলে ব্যথা ও নড়াচড়ায় অসুবিধা হয়।

          ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি : বিশেষ করে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে হাড় ও পেশিতে ব্যথা বাড়তে পারে।

          ভুল ভঙ্গি ও দুর্বল পেশি : ঊরুর পেশি দুর্বল হলে হাঁটুর ওপর চাপ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ভুলভাবে বসা বা কাজ করলেও সমস্যা

হতে পারে।

লক্ষণ

হাঁটুতে ব্যথা বা জ¦ালাফোলা ও গরম অনুভূত হওয়াহাঁটু শক্ত হয়ে যাওয়াহাঁটলে বা নড়াচড়ায় কটকট শব্দ হওয়াসিঁড়িতে ওঠা-নামায় কষ্টহাঁটু ভাঁজ বা সোজা

করতে অসুবিধা

ঘরোয়া চিকিৎসা

রাইস পদ্ধতি

 পায়ের বিশ্রাম ব্যথার স্থানে বরফ সেক, ১৫-২০ মিনিট ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ ব্যবহার

পা উঁচু করে রেখে বিশ্রাম নেওয়া।

গরম সেঁক

দীর্ঘদিনের শক্তভাব বা ব্যথায় উপকারী।

ওজন নিয়ন্ত্রণ

অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর ওপর চাপ বাড়ায়। ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা।

হালকা ব্যায়াম

কোয়াড্রিসেপস ও হ্যামস্ট্রিং শক্তিশালী করার ব্যায়াম।

পুষ্টিকর খাবার

টক দই, দুধ, পনির, মাছ, ডিম, শাকসবজি, ফল, বাদাম এবং পানি।

রিফ্লেক্সোলজি পয়েন্ট 

চাপ প্রয়োগের নিয়ম ও সময় : প্রতিটি পয়েন্টে সহনীয়ভাবে পাম্প করার মতো করে এক থেকে দুই মিনিট চাপ দিন। দিনে এক থেকে দুবার

থেরাপি নিতে পারেন, খাওয়ার আগে বা  আধা ঘণ্টা পরে।

[বি.দ্র. হাঁটুতে ফোলা, লালচে ভাব, ভাঙা হাড়, তীব্র আঘাত বা সংক্রমণ থাকলে প্রথমেই আকুপ্রেশার করা উচিত নয়। আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।]