ফুটবল মাঠে দল পরিচালনা করার সময় কোচ মিকেল আর্তেতার চোখ সাধারণত থাকে ঘাসের সবুজ জমিনে ও প্রতিপক্ষের কৌশল বিশ্লেষণে। তবে সম্প্রতি তার বড় ছেলে গ্যাব্রিয়েল আর্তেতা পুরো ফুটবল দুনিয়ার চোখ আটকে দিয়েছেন নিজের চোখের দিকেই।
আর্সেনালের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সদ্য প্রকাশিত একটি ছবি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। মাঠের পারফরম্যান্স বা বাবার পরিচয়ের বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এখন ইন্টারনেট দুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই ১৭ বছর বয়সী কিশোর।
অ্যাকাডেমির অফিশিয়াল ফটোশুটে গ্যাব্রিয়েলের দুটি চোখ আলাদা রঙের দেখে প্রথমে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছিল, ছবিটি কি এডিটেড বা কারসাজি করা? কিন্তু একটু গভীরভাবে খেয়াল করলেই স্পষ্ট ধরা পড়ে যে, এর পেছনে কোনো কৃত্রিমতা নেই; বরং এটি সৃষ্টিকর্তার এক অপূর্ব সৃষ্টি।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিরল অবস্থার নাম ‘হেটেরোক্রোমিয়া’, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশেরও কম মানুষের মধ্যে দেখা যায়। জন্মগত এই বৈশিষ্ট্যের কারণে গ্যাব্রিয়েলের এক চোখ বাদামি এবং অন্য চোখটি নীল। বিশ্বের খ্যাতিমান তারকা ডেভিড বাউই কিংবা মিলা কুনিসের মতো বিরল এই জিনগত বৈশিষ্ট্য তার শরীরে এসেছে বাবা-মায়ের কাছ থেকেই।
চিকিৎসকদের মতে, মায়ের কাছ থেকে পাওয়া প্রভাবশালী বা ডমিন্যান্ট জিন এবং বাবার কাছ থেকে আসা প্রচ্ছন্ন বা রিসেসিভ জিনের অসাধারণ এক সংমিশ্রণ হলো এই হেটেরোক্রোমিয়া। এতে দৃষ্টিশক্তিতে বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়ে না এবং এটি মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ক্ষতিকারক নয়।
২০২৫-২৬ মৌসুম থেকেই আর্সেনাল অ্যাকাডেমির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলছেন গ্যাব্রিয়েল। গত জুনে ক্লাবের সঙ্গে একটি বৃত্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গানার্সদের সিস্টেমে নিজের শিকড় আরও শক্ত করেছেন। একদিকে ক্লাবের হয়ে মাঠে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা, অন্যদিকে দুই চোখের ভিন্ন রঙের জাদুকরি আলোয় সমর্থকদের মুগ্ধ করা, সব মিলিয়ে আর্তেতা পরিবারে এখন নতুন এক সেনসেশন এই টিনএজার। বাবার মতো কোচিং টেকনিক নয়, বরং চোখের অনন্য জাদুতে গ্যাব্রিয়েল এখন লন্ডনের আকাশ ছাপিয়ে আলোচনার টেবিলে বিশ্ব ফুটবলের নতুন এক বিস্ময়।