নেপাল ও তিব্বতে বন্যায় ৭৫০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ প্রায় তিন হাজার

হিমালয় পাদদেশের পার্বত্য অঞ্চলে আকস্মিক ঢল ও পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা ভয়াবহ দুর্যোগে নেপাল ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে অন্তত ৭৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। খবর বিবিসি’র।

দুর্যোগকবলিত দুর্গম এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো এবং উদ্ধার অভিযান চালানো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কেবল নেপাল অংশেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৩৪ জন। দেশটির অভ্যন্তরীণ পাহাড়ি গ্রামগুলোতে পানির তোড়ে বহু ঘরবাড়ি, সেতু ও রাস্তাঘাট ভেসে গেছে। এখন পর্যন্ত সেখানে ২,৪০০ জনেরও বেশি মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্বজনহারা পরিবারগুলো নিখোঁজদের খোঁজে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।নেপালে ত্রাণের জন্য ভিড় করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত লাখো জনতা। ছবি: টিভি থেকে নেওয়া

অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে তিব্বতে এ পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে তিব্বতের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো উঠে আসেনি বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে কাজ করছে সশস্ত্র বাহিনীর অন্তত ২০ হাজার সদস্য। তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া, একটানা বৃষ্টি এবং চরম দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা ‘অত্যন্ত কঠিন’ হয়ে পড়েছে।

এই মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেই উজান অঞ্চলে নতুন করে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক। শনিবারের ভয়াবহ ভূমিধসের পর নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রুদ্ধ হয়ে কয়েকটি নতুন ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা কৃত্রিম পলি-বাঁধ তৈরি হয়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় মাধ্যম জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা এই নতুন হ্রদগুলোর স্থায়িত্ব ও ঝুঁকি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তৈরি হওয়া একটি কৃত্রিম বাঁধের কারণে ইতোমধ্যেই নদী অববাহিকার দুই পারের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় অব রিডিং-এর বন্যা পূর্বাভাস ও দুর্যোগ ঝুঁকি বিষয়ক গবেষক জেফ ডা কস্টা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, নতুন তৈরি হওয়া এসব হ্রদ বা কৃত্রিম বাঁধ যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে দ্বিতীয় দফায় আরও ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

তার মতে, দ্বিতীয় দফায় আসা পানির পরিমাণ প্রথম বন্যার চেয়ে কম হলেও এটি চরম ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, প্রথম দুর্যোগের ধ্বংসাবশেষ ইতিমধ্যেই নদ-নদীর প্রবাহকে সংবেদনশীল করে তুলেছে।

এ অবস্থায় চীন ও নেপাল সরকারের মধ্যে অবিলম্বে তথ্য আদান-প্রদানের ওপর জোর দিয়েছেন দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা। গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ গলে যাওয়া ও পাহাড়ের ঢালের অস্থিরতা বাড়লেও, বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ছাড়া এককভাবে কোনো ঘটনাকে দায়ী করা কঠিন। তবে দ্রুত সীমান্ত পারাপারের তথ্য সরবরাহ ও মাঠপর্যায়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল সম্ভাব্য দ্বিতীয় বিপর্যয় ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব।