মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শাসন করায় এক শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে হামলাকারীদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের মধ্য বাউশিয়া আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার শিক্ষিকার নাম জানাতুল ফেরদৌস। তিনি মধ্য বাউশিয়া আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আরবি বিষয়ের শিক্ষক।
জানা গেছে, স্থানীয় সাথী ও সুলতান দম্পতির মেয়ে সিনথিয়া (৭) ওই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে এক সহপাঠীর সঙ্গে দুষ্টুমি করায় শ্রেণিশিক্ষক তাকে ধমক দিয়ে শাসন করেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির মা ও নানী ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষিকাকে গালমন্দ করেন এবং প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দেন। পরে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। এরই জেরে রোববার শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
মারধরের শিকার শিক্ষিকা জানাতুল ফেরদৌস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার ক্লাসে সিনথিয়া পাশের আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে খাতা নিয়ে দুষ্টুমি করলে আমি তাকে ধমক দিই। মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে জানায়, আমি তাকে মেরেছি। পরে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দিলে তিনি বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। আজ বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ ওই শিক্ষার্থীর মা সাথী, মামা মারুফ ও নানী মোরশেদা আমার পথরোধ করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। পরে আমি পড়ে গেলে আমাকে লাথি মারা হয় এবং জামাকাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয়।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার শিশু শিক্ষার্থীকে ধমক দেওয়ার ঘটনায় অভিভাবকেরা বিচার নিয়ে এলে আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে দিই। আজ ওই শিক্ষিকা বিদ্যালয় থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে যেভাবে এলোপাতাড়ি মারধরের শিকার হয়েছেন, তা ন্যক্কারজনক। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিনথিয়ার নানী মোরশেদা বেগম মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার নাতনির সঙ্গে আরেক ছাত্রীর দুষ্টুমির ঘটনায় ওই শিক্ষিকা আমার নাতনিকে মারধর করেছেন। কিন্তু অপর ছাত্রীকে কিছুই বলেননি। আজ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ওই শিক্ষিকা আমাদের দেখে গালমন্দ করায় প্রতিবাদ করলে আমার মেয়ের সঙ্গে তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।’
বিষয়টি নিয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।