ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মেলা টেক্সওয়ার্ল্ড প্যারিস ২০২৬-এ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন সোমবার (৩১ আগস্ট)। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের প্রচার, নতুন ক্রেতা সৃষ্টি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এবারের মেলায় বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় প্যারিসের লা বুর্জে এক্সিবিশন সেন্টারে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
এবার ইপিবির উদ্যোগে বাংলাদেশের ১২টি প্রতিষ্ঠান টেক্সওয়ার্ল্ড মেলায় অংশ নিচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের আরও ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেবে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল মিনিস্টার মিজানুর রহমান।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের শিল্পায়ন ও রপ্তানি বাণিজ্যে এ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারের বর্তমান বাস্তবতা আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ। কম উৎপাদন খরচের পাশাপাশি পণ্যের মান, সময়মতো সরবরাহ, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং টেকসই ব্যবসায়িক ব্যবস্থা এখন ক্রেতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। ইউরোপীয় বাজারে এসব বিষয়ে গুরুত্ব আরও বেশি।
এ কারণে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে শুধু কম দামে পোশাক উৎপাদনের সক্ষমতার ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্যের ও বেশি মূল্য সংযোজনকারী পোশাক উৎপাদন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর দিকে এগোতে হচ্ছে। নিটওয়্যার, ডেনিম, স্পোর্টসওয়্যার, আউটারওয়্যারসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাকের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে শিল্প উদ্যোক্তাদের নজর বাড়ছে।
ফ্রান্স বাংলাদেশের জন্য ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বিশেষ করে প্যারিস বিশ্ব ফ্যাশন শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এখানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। টেক্সওয়ার্ল্ডে সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রেতা, ব্র্যান্ড প্রতিনিধি, আমদানিকারক ও ফ্যাশন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবারের মেলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ দেশের পোশাকশিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়িক আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরবে। একই সঙ্গে নতুন ক্রেতা ও ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরি এবং ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য ইউরোপের বাজারে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন ব্যয়, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, পরিবেশগত মানদণ্ড এবং ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। টেক্সওয়ার্ল্ড প্যারিসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ তাই শুধু একটি বাণিজ্য মেলায় অংশ নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান সক্ষমতা তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ রপ্তানি সম্ভাবনা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।