জবিতে আইনজীবীর ওপর হামলা

অভিযোগের পরও নীরব প্রশাসন, ক্ষুব্ধ আইনজীবী মহল

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একজন সরকারি কৌঁসুলির ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনিকভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ করেছেন হামলার শিকার ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) খন্দকার আহমেদ আল ইরফান।

ঘটনাটি ঘটে গত ৪ আগস্ট দুপুরে। ভাগিনার এলএলএমে ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য জানতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন ইরফান। তাঁর অভিযোগ, সেখানে একদল ব্যক্তি তাঁকে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে ঘিরে ধরে মারধর করেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি।

ইরফানের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন, আইনজীবী সমিতির পরিচয়পত্র, মানিব্যাগ, ঘড়ি, এটিএম কার্ডসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ৮ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। জিডির নম্বর ৪২৬। পুলিশ মোবাইল ফোনটি ছাড়া তাঁর হারানো কয়েকটি সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধার করে ফেরত দিয়েছে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ইরফান নয়জনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁরা হলেন—জকসুর নেতা সাদমান সাম্য, পরিবহন সম্পাদক মাহিদ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কামরুজ্জামান সিয়াম, মার্কেটিং বিভাগের রেহমান মুস্তাফিজ, জীবন হোসেন, লোকপ্রশাসন বিভাগের আলিমুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের জয় সাহা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৌফিক আনাম এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাহারুল ইসলাম।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনও হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হামলার পর চিকিৎসাধীন ইরফানকে হাসপাতালে দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজন শিক্ষক। ইরফানের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আলাদা আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা দেখতে না পাওয়ায় সেই আশ্বাস নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, প্রকাশ্য স্থানে একজন আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলির ওপর হামলার অভিযোগের পরও ব্যবস্থা না নেওয়া হতাশাজনক।

এদিকে আইনজীবীদের ওপর হামলার আরেক ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে কোতোয়ালি আমলি আদালতে মামলা করা হয়েছে। ২৪ নম্বর আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মামলার পাশাপাশি ওই দিন আইনজীবী সমিতির সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন আইনজীবীরা। হামলার প্রতিবাদে প্রতীকী অনশন ও সমাবেশে সিনিয়র আইনজীবী জহিরুল হাসান মুকুল, লুৎফর ইসলাম আজাদসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। তাঁরা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

আইনজীবী মহলের প্রশ্ন, আদালতের নির্দেশে অপর একটি হামলার ঘটনায় মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া এগোলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এপিপি ইরফানের ওপর হামলার অভিযোগের তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা কোথায় দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। এখন আইনজীবীদের নজর—ইরফানের অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না এবং আইনগত প্রক্রিয়া কতদূর এগোয়।