নাটোরের গুরুদাসপুরে নতুন ভবনের অনুমোদন পেতে মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত একটি ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। উপজেলার ধানুরা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ভবনটি এত অল্প সময়ে কীভাবে ভেঙে ফেলা হলো, কার অনুমোদনে বিক্রি হলো এবং বিক্রির অর্থ কোথায় গেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে স্কুলের বিজ্ঞান ভবনটি কয়েকটি টিনশেড ঘর কোনো টেন্ডার ছাড়াই ভেঙে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রবিবার সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয় চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, বিজ্ঞান ভবন ও টিনশেড ঘরগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। ভবনগুলোর জায়গা মাটি পর্যন্ত পরিষ্কার করে রাখা হয়েছে। যেখানে একসময় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলত, সেখানে এখন শুধু ফাঁকা জমি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, জাইকার অর্থায়নে ২২ লাখ টাকায় বিজ্ঞান ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৩ সালে। পরে স্থানীয় কমিটি ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ভবন ও টিনশেড ঘরগুলো ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তার দাবি, নতুন অ্যাকাডেমিক ভবনের অনুমোদন পেতে জায়গাটি খালি দেখানো প্রয়োজন ছিল। স্কুলের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভবনটি নির্মাণে অর্থায়নকারী জাইকার কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ভবনটি বিক্রি বা অপসারণের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের কিছুই জানায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, ভবন অপসারণের বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে। গুরুদাসপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহবুব হোসেন বলেন, নতুন ভবনের টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময় তাদের জায়গাটি খালি দেখানো হয়েছিল। এর আগে সেখানে কোনো স্থাপনা ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
পুরনো বিজ্ঞান ভবন ও টিনশেড ঘর সরিয়ে দেওয়ার পর বিদ্যালয়ে পাঠদানেও সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্য, জায়গার অভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচের উন্মুক্ত স্থানে ক্লাস করতে হচ্ছে। গত ২৬ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ নতুন অ্যাকাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে আগের বিজ্ঞান ভবন ভেঙে ফেলার বিষয়টি তার জানা ছিল না বলে জানান তিনি। বিষয়টি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
গুরুদাসপুর ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ভবনটি অপসারণের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।