কল্যাণ ও পূর্ণতা যেসব কাজে

কল্যাণ তিন বিষয়ের মধ্যে নিহিত। দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন, পার্থিব বিলাসিতার প্রতি অনাসক্তি এবং নিজের ত্রুটির প্রতি সচেতন দৃষ্টি রাখা। আর পূর্ণতা চার বিষয়ের মধ্যে। দ্বীনদারিতা, আমানতদারি, আত্মসংযম ও সংযত আচরণ। যখন আপনি কোনো আমল করবেন, তখন সেটিকে তুচ্ছ মনে করবেন না। কারণ আপনি জানেন না, কোন আমলটি আপানকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।

মানবিক সংশোধন মানুষের অন্তরের গভীরতা থেকেই উৎসারিত হয়। বক্ষস্থিত হৃদয় থেকেই তার সূচনা। ইমান ও কোরআনের নুরের মাধ্যমে হৃদয় পবিত্র হয়। সুন্দর কথা, সৎকর্ম ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে আত্মা পরিচ্ছন্নতা লাভ করে।

মুসলমানরা তাদের ইবাদতের মাধ্যমে একদিকে যেমন আল্লাহর দাসত্ব, তাওহিদ ও ইখলাস প্রতিষ্ঠা করে, তেমনি অন্যদিকে আল্লাহর অনুগ্রহ ও পার্থিব কল্যাণও প্রত্যাশা করে। এসব ভিত্তি, প্রেরণা ও প্রজ্ঞার আলো, দ্বীন ও দুনিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপন, হৃদয়ের আমল ও পৃথিবী আবাদ করার সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই কাক্সিক্ষত পূর্ণতার স্তরে উন্নীত হওয়ার পথ স্পষ্ট হয়। এই পথই সেই পবিত্রতার উৎস, যা জীবনকে সংরক্ষণ করে, আত্মাকে পরিশীলিত করে, মর্যাদা বৃদ্ধি করে, অন্তরে প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয় এবং তুষ্টি অর্জন নিশ্চিত করে।

দুনিয়ার প্রতি ‘জুহদ’ (দুনিয়াবিমুখতা) ছয়টি বিষয়ে প্রযোজ্য। নিজের নফস, মানুষের প্রতি নির্ভরতা, বাহ্যিক রূপ ও জৌলুস, সম্পদ, ক্ষমতা ও নেতৃত্ব এবং আল্লাহ ছাড়া সব কিছুর প্রতি আসক্তি ত্যাগ করা। ইমাম আহমদকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, একজন মানুষের কাছে যদি এক হাজার দিনার থাকে, তবুও কি সে ‘জাহিদ’ (দুনিয়াবিমুখ) হতে পারে? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, হ্যাঁ, যদি তা বৃদ্ধি পেলে সে আনন্দিত না হয় এবং কমে গেলে সে দুঃখিত না হয়। তিনি আরও বলেছেন, সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘জাহিদ’, অথচ তাদের হাতে সম্পদের প্রাচুর্য ছিল।

যে ব্যক্তি সব বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস অর্জন করে, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে, তার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে, কোনো সৃষ্টির সঙ্গে হৃদয়কে সম্পৃক্ত না করে এবং বৈধ উপায়ে উপার্জন করে, সে প্রকৃত সাফল্য লাভ করে। যাকে মহান আল্লাহ ইয়াকিন (বিশ্বাস) দান করেন, সে কখনো আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করে না। সে আল্লাহর দেওয়া রিজিকের জন্য মানুষের প্রশংসা করে না এবং আল্লাহ যা দেননি সেটার জন্য কাউকে দোষারোপও করে না। ইয়াকিনপ্রাপ্ত ব্যক্তি জানে, আল্লাহর রিজিক কোনো লোভীর লালসায় আসে না এবং কোনো বিদ্বেষীর অপছন্দে তা বন্ধও হয় না। ইয়াকিনই যথেষ্ট সম্পদ। যার হৃদয় সমৃদ্ধ, তার হাতও সমৃদ্ধ হয়। আর যার হৃদয় দারিদ্র্যে আক্রান্ত, তার বাহ্যিক প্রাচুর্যও তাকে উপকার দিতে পারে না।

যা আপনার ভাগ্যে আছে, তা কখনো আপনাকে এড়িয়ে যাবে না। আর যা আপনার ভাগ্যে নেই, তা কখনো আপনার কাছে আসবে না। তাই হৃদয়কে সেসব বিষয় থেকে মুক্ত রাখুন, যেগুলো থেকে আপনার হাত শূন্য। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করে, মহান আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট হন। যে তার কাছে চায়, তিনি তাকে দেন। যে তাকেই অবলম্বন করে, তিনি তাকে অভাবমুক্ত করেন। কানাআত (অল্পে তুষ্টি) এমন এক ভাণ্ডার, যা কখনো নিঃশেষ হয় না। সন্তুষ্টি এমন এক সম্পদ, যা ফুরায় না। অল্প হলেও যা যথেষ্ট, তা অধিক থেকে উত্তম, যদি অধিক জিনিস মানুষকে গাফেল করে ফেলে। নেক আমল কখনো নষ্ট হয় না। পাপ ভুলে যাওয়া হয় না। একজন মানুষের পূর্ণতা এটাই যে, পাওয়া ও না পাওয়া, শক্তি ও দুর্বলতা, সম্মান ও অপমান, সব অবস্থায় তার হৃদয় সমান থাকে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি থেকে ভাষান্তর করেছেন আহমদ আবদুর রাফি