তওবায় মেলে মুক্তি

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৬ এএম

একনিষ্ঠতার সঙ্গে তওবা-ইসতিগফার এবং আল্লাহর সামনে নিজের গুনাহের কারণে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়ার দ্বারা উভয় জগতে সফলতা ও কল্যাণ অর্জিত হয়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইসতিগফারকে আবশ্যক করে নেবে আল্লাহতায়ালা তাকে প্রত্যেক সঙ্কীর্ণতার মধ্যে সহজতা এবং প্রতিটি পেরেশানিতে মুক্তির পথ বের করে দেন। তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন যার চিন্তাও সে কখনো করেনি।’ (সুনানে আবু দাউদ) অন্য এক হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন যে ব্যক্তি নিজের আমলনামায় ইসতিগফারের আধিক্য দেখতে পাবে তার জন্য এটা সুসংবাদ হবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)

ইসতিগফার মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তার বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন, যার উট মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে পায়।’ (সহিহ বুখারি) রাসুল (সা.)-এর কাছেও ইসতিগফার সর্বাধিক প্রিয় আমল ছিল। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে লোক সকল! আল্লাহতায়ালার কাছে তোমরা তওবা করো। কারণ আমি প্রতিদিন শতবারের ওপর তওবা করে থাকি।’ (সহিহ মুসলিম) আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমরা এক মজলিসে রাসুল (সা.)-কে ইসতিগফারের বাক্যটি শতবার পড়তে শুনেছি।’ (সুনানে আবু দাউদ)

অনেকেই এই কথা বলেন যে, গুনাহ করা অবস্থায় তওবা করার দ্বারা আমাদের কী উপকার সাধিত হবে? এ কথা সঠিক নয়। কারণ রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি একনিষ্ঠতার সঙ্গে ইসতিগফার করে তাকে গুনাহের ওপর অনড় গণ্য করা হবে না। যদিও দিনের মধ্যে সত্তর বারের বেশি তার থেকে গুনাহ প্রকাশিত হয়। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, গুনাহের ওপর অনড় থাকে ওই ব্যক্তি, যে ইসতিগফার করে না এবং নিজের গুনাহের ওপর লজ্জিতও হয় না। ইবনে মালিক (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি গুনাহের পর ইসতিগফার করে এবং এ জন্য অনুতপ্ত হয়, সে গুনাহের ওপর অনড় সাব্যস্ত হবে না।

তওবার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। এক. ব্যক্তি তৎক্ষণাৎ কৃত গুনাহ পরিত্যাগ করবে। দুই. উক্ত গুনাহের ওপর লজ্জিত হবে। তিন. ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ়সংকল্প করবে। যদি উল্লিখিত শর্তের কোনো একটি অনুপস্থিত থাকে তাহলে তওবা পরিপূর্ণ হবে না। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি তওবা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : ইমাম ও মাদ্রাসাশিক্ষক

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত