ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ রুবেলদের

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দারুণ এক স্বপ্নের জাল বুনেছিল বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। ডারউইনের টপ এন্ড টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে পুরো আসরজুড়েই দাপট দেখিয়ে সেমিফাইনালের মঞ্চে পা রেখেছিল ইরফান শুক্কুরের নেতৃত্বাধীন দলটি। কিন্তু শেষ চারের মহারণে জয়ের সুবাস ছড়িয়েও শেষ ওভারের রোমাঞ্চকর ও অবিশ্বাস্য নাটকে ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমির কাছে ১ উইকেটে হেরে যায় লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। বোলারদের বুক চিতিয়ে লড়াই আর পুরো আসরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের গৌরব মøান হয়ে গেল কেবল ব্যাটিংয়ের চিরচেনা ব্যর্থতায়, যার খেসারত দিতে হলো টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিয়ে।

ম্যাচের ভাগ্য মূলত নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতার চড়া মাশুলে। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য খুব একটা খারাপ ছিল না। পাওয়ারপ্লের প্রথম পাঁচ ওভারেই রান রেট দশের কাছাকাছি রেখে ২ উইকেটে ৪৯ রান তুলেছিলেন জিসান-আরিফুলরা। কিন্তু পাওয়ারপ্লে শেষ হতেই ছন্দপতন, নিয়মিত বিরতিতে সাজঘরে ফেরেন বাকিরা।

মাত্র ১০১ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়ায় নামতে দিয়ে বড় কোনো বিপর্যয় এড়ানো কঠিন ছিল, তবে এই ছোট্ট পুঁজিকেই পাহারায় পরিণত করতে জানপ্রাণ লড়িয়ে দিয়েছিলেন বোলাররা। ভিক্টোরিয়ানদের ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৪ রান থেকে হঠাৎই রুবেল-শামীমদের স্পিন ঘূর্ণিতে মাত্র ২৫ রান যোগ করতেই তারা হারিয়ে বসে ৫ উইকেট। শেষ ওভারে রূপকথার জয়ের সুবাস পেলেও শেষ পর্যন্ত প্রথম বলের রান আউট এবং ডট বলের চাপ সামলে চতুর্থ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সব সমীকরণ মিলিয়ে দেন ব্যাটার লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ড।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের খতিয়ান টানলে দেখা যায়, বোলাররা যতটা উজ্জ্বল ছিলেন, ব্যাটাররা ছিলেন ঠিক ততটাই বিবর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার এই কন্ডিশনে মোট ৭টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ এইচপি, যার মধ্যে লিগ পর্বে ৬টির মধ্যেই ৫টিতেই জিতেছিল ইরফান শুক্কুরের দল। যেখানে সাফল্যের বড় অংশজুড়ে ছিলেন স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। আসরজুড়ে বিধ্বংসী বোলিং করে ৭ ম্যাচে ২৩ উইকেট শিকার করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছেন তিনি, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিউই স্পিনার জেইডন লেনক্সের চেয়েও ১০টি বেশি। সেমিফাইনালেও ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে লড়াই চালিয়েছিলেন এই ৩০ বছর বয়সী স্পিনার। পেসারদের মধ্যে রিপন মণ্ডল নেন ৮ উইকেট আর বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান নেন ৯ উইকেট।

পুরো টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচে ২১৯ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনে ছিলেন আরিফুল ইসলাম।