ইসরায়েলের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি গ্রিসের

ইসরায়েলের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি ইউরো (৩৫০ কোটি ডলার) মূল্যের একটি বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে সোমবার (৩১ আগস্ট) চুক্তি সই করতে যাচ্ছে গ্রিস। দেশটির সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই চুক্তি করা হচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুটি নিরাপত্তা সূত্র।   

গ্রিসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ইতোমধ্যে চুক্তিটির প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘপাল্লার উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, 'সোমবার পরে তেল আবিবে গ্রিক কর্মকর্তারা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসআইবিএটি ও এমএএফএটি অধিদপ্তরের সঙ্গে চারটি চুক্তি সই করবেন। প্রায় ৩০০ কোটি ইউরো মূল্যের এসব চুক্তিতে তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।' 

গ্রিস ২০৩৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৮ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় করে 'অ্যাকিলিস শিল্ড' নামে একটি বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান ও ড্রোনের হুমকি মোকাবিলা করা হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ফ্রান্স ও ইতালির কাছ থেকে যুদ্ধজাহাজ বা ফ্রিগেট কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে দেশটির।

ওই সূত্র আরও জানান, ড্রোনবিরোধী একটি পৃথক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও আরেকটি চুক্তি সই হবে।

গ্রিস বর্তমানে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, রাশিয়ার এস-৩০০ এবং বিভিন্ন ধরনের স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে। দেশটি তার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে, যা ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশের তুলনায় বেশি। এর অন্যতম কারণ প্রতিবেশী তুরস্কের সঙ্গে গ্রিসের দীর্ঘদিনের বিরোধ।

গ্রিস ও ইসরায়েলের মধ্যে বর্তমানে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশ গ্রিসে একটি যৌথ বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করে, প্রতিবছর যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেয় এবং ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও সহযোগিতা করে।

গত বছরও গ্রিস প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে ইসরায়েল-নির্মিত ৩৬টি রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থা কিনেছিল।