যোগাযোগের একমাত্র বাতিঘর ‘পোষ্ট অফিস’ এখন আস্থা সংকটে। সেবার মান বলতে কিছুই নেই। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শাখা পোস্ট অফিসের সিংহভাগ ভবন জীর্ন-শীর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারি কিছু নথিপত্রের আদান-প্রদান ও সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড ছাড়া অন্য কোন সেবা অনুপস্থিত থাকায় মানুষ পোষ্ট অফিস বিমুখ হয়ে পড়েছেন। যোগাযোগ সেবা গ্রহীতারা এখন বিভিন্ন বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এ অবস্থার নেপথ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন সেবা গ্রহীতারা। অন্যদিকে, জীবন-জীবিকায় ভাগ্য বদলে আন্দোলন সংগ্রাম করলেও এখনও দাবি পূরণ হয়নি, এমন অভিযোগ পোষ্ট অফিসে কর্মরত কর্মচারীদের।
জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলার ৪২টি শাখা পোস্ট অফিসের সিংহভাগ ভবনের জীর্ন-শীর্ণ ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে। নাম মাত্র সম্মানী ভাতা দিয়েই চলছে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম। এসব অফিসের কোনটিতে সামান্য বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে, আবার কোনটির দেওয়ালে ফাঁটলসহ খসে পড়ছে পলেস্তারা। শাখা পোস্ট অফিসে কর্মরত কর্মচারীদের সাথে কথা বলে এসব চিত্র উঠে আসে।
বাংলাদেশ গ্রামীণ ডাক কর্মচারী পরিষদ (রেজি-২০৩১) যশোর জেলার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন আকাশ ক্ষোভের সাথে বলেন, জেলার ২শ’৪৯ টি শাখা পোস্ট অফিসে ৫শ’৫৩ জন কর্মচারী রয়েছেন। সকাল ৯টা গতে বিকেল ৩টা পর্যন্ত একটানা দায়িত্ব পালন করেন। পোস্ট মাস্টার মাসে ৪ হাজার ৪শ’৬৬ টাকা, পিওন ৪ হাজার ৩শ’৫৪ টাকা এবং রানার ৪ হাজার ১শ’৭৭ টাকা সম্মানী পান। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দু’বেলা-দু’মুঠো খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এসময় তিনি আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে অভিযোগের সুরে বলেন, এররপরও কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের জন্য ৫শ’ টাকা কেটে নেওয়া হয়। অথচ তাদের কোন কর্মচারী অসুস্থ কিংবা মৃত্যুবরণ করলে কর্তৃপক্ষের নিকট গেলেও টাকা পাওয়া যায়না। আশা নিয়ে এ পেশায় যোগ দিয়ে ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখে অনেকে চাকরি ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন।
যশোর ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. হাসানুজ্জামান ও পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব, খুলনা) কবির আহমেদ দ্বয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুধে-বার্তা দিয়ে সাড়া না পাওয়ায় তাদের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।