নৌকাডুবির পর ইলিশায় বাবা-ছেলেকে জীবিত উদ্ধার

ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে একটি ছোট মাছ ধরার নৌকা ডুবে গেছে। এ সময় নৌকায় থাকা বাবা ও ছেলেসহ দুই জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। পরে উদ্ধার হওয়া জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে ইলিশা লঞ্চঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকাডুবির খবর পেয়ে কোস্টগার্ড স্টেশন ইলিশার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, সকালে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ছোট মাছ ধরার নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। নৌকাটিতে থাকা দুই জেলে নদীতে পড়ে যান। খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে নদী থেকে বাবা ও ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন— ভোলা সদর উপজেলার কন্দকপুর গ্রামের মোতাহার গোলদারের ছেলে মো. আলমগীর গোলদার (৪৫) এবং তার ছেলে মো. মিজানুর রহমান (১৩)।  

উদ্ধারের পর কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। একই সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি দেওয়া হয়। পরে ডুবে যাওয়া মাছ ধরার নৌকাটিও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলে ও নৌকাটি পরবর্তীতে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মেঘনা নদীতে নৌকাডুবির খবর পাওয়ার পর কোস্টগার্ড স্টেশন ইলিশার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নৌকায় থাকা দুই জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়ার পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডুবে যাওয়া মাছ ধরার নৌকাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

মেঘনা নদী উপকূলীয় ভোলা অঞ্চলে মাছ ধরার সময় প্রায়ই বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল ঢেউয়ের মুখে পড়েন জেলেরা। বিশেষ করে ছোট নৌকার জেলেদের জন্য হঠাৎ সৃষ্ট ঢেউ ও স্রোত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ কারণে নদীতে মাছ ধরার সময় আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কোস্টগার্ড কর্মকর্তা বলেন, নদী ও উপকূলীয় এলাকায় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।