জ্বালানি সংকট নিরসন ও জননিরাপত্তা নিয়ে জনরাষ্ট্র আন্দোলনের উদ্বেগ

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন জরুরী বৈঠকে করে। বৈঠকে জ্বালানি (গ্যাস-বিদ্যুৎ) সংকট ও জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা।

আজ সোমবার (৩১ আগষ্ট)  বিকাল পাঁচটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সভায় এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংগঠনের নেতারা।

জ্বালানি সংকট নিরসন ও জননিরাপত্তা স্থিতিশীল করে জনমনে শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবীতে আগামী বুধবার প্রতিবাদ সমাবেশ করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সংগঠনের নেতারা। 

বৈঠকে বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু বলেন, খুনি হাসিনার দুঃশাসনকালে অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের চূড়ান্ত ফয়সালা জুলাই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফিরে এসেছে ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা। জনগণ যখন একটা সুখী সমৃদ্ধশালী কল্যানমুখী দেশের স্বপ্ন দেখছিল তখন অন্তর্বর্তীকালীন দুর্বল সরকার সে পথে দেশকে এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়।

বিগত ড. ইউনুস সরকার সম্পূর্ণভাবে শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করার পথে হাঁটতে ব্যর্থ হয়। অনেক আশা-আকাঙ্খা নিয়ে এদেশের জনগণ ভোট দিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা দেখিয়ে তারেক রহমান সরকার গঠন করে। এই নতুন সরকারের জনগণের পক্ষে আন্তরিকতা থাকলেও বিশেষভাবে জ্বালানি ও জানমালের নিরাপত্তায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এই দুটো বিষয়ে জনগণ চরম অস্বস্তি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনরাষ্ট্র আন্দোলন মনে করে জুলাই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান ও দীর্ঘ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পরবর্তী সরকার আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালন অত্যাবশ্যকীয়। আমরা দেখছি জনগণকে স্বস্তির জন্য এই মন্ত্রণালয় কোন পদক্ষেপ তো গ্রহণ না করে বরঞ্চ দায়সারা বক্তব্য দিচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। অবিলম্বে জনগণের স্বস্তি ফিরিয়ে আনাতে তারেক রহমান সরকারকে উদাত্ত আহ্বান জানাই।

মুখপাত্র ইকবাল হোসাইন (সাম্য শাহ) বলেন দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট সময়ের পরে মানুষ একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনে মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রে পথে যাত্রা করতে চেয়েছিল। অল্প আয়ের মানুষ শ্রম-ঘামের পয়সায় দুইবেলা ভাত খেয়ে নিজের ঘরে সুখি, সুন্দর, এবং নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলো। কিন্তু বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মুল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ঘরে ঘরে মানুষ খুন হচ্ছে, মা-বোনদের ধর্ষণ করা হচ্ছে জাহেলি আমলের উদাহরণ পিছনে গেলে।

প্রতিদিন কারখানা-শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে। অথচ সরকারের কোন প্লান-পরিকল্পনা আমরা দেখছিনা। সরকার বলে না, আমাদের বা সিস্টেমের এই সমস্যা... যার জন্য অইটা করতে এতো দিন লাগবে। মন্ত্রীরা দায়সারা কথা বলে হাসিনার মন্ত্রীদের মতো। মানুষ মনে করে, সরকারের এই বিদ্যুৎ বা জ্বালানি মন্ত্রী দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পুরণ হবেই না; উল্টো সরকারকে গর্তে ফেলার জন্য তিনি একাই যথেষ্ট!

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জনরাষ্ট আন্দোলনের অন্যতম সদস্য সরদার আমিরুল ইসলাম সাগর, ক্যাপ্টেন রেদোয়ান ও মাহমুদ হাসান লাবলু। আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠক মোশাররফ হোসেন, সেলিম হোসেন, নাজমুস সাকিব, নাঈম হামিদ পিথু, তামিম আহমেদ তুরাগসহ অন্যরা।