কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ১৬ লাখ টাকা

বাঁচতে চান মেধাবী শিক্ষার্থী আল আমিন

স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে সেই স্বপ্নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছিল টাঙ্গাইলের সখীপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী আল আমিন। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতা কেড়ে নিয়েছে তার স্বাভাবিক জীবন। এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় দিন গুনছে। 

আল আমিন সখীপুর উপজেলার সূর্যতরুণ শিক্ষাঙ্গণ (আবাসিক) স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রহিম বিএসসি ও আসিয়া আক্তারের তিন সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় মেধাবী আল আমিন পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি অর্জন করে। এরপর সূর্যতরুণ শিক্ষাঙ্গণ আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জন করে। এবার সে সখীপুর সরকারি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

পড়ালেখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন তার নানা স্বপ্ন, ঠিক তখনই অসুস্থ হয়ে পড়ে আল আমিন। চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তার দুটি কিডনিই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি কিডনি পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে এবং অন্য কিডনিটিও প্রায় অর্ধেক অকেজো হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কিডনি বিভাগের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার ডায়ালাইসিস চলছে। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আল আমিনের কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হলে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে বলে আশাবাদী চিকিৎসকরা।

কিন্তু চিকিৎসার পাশাপাশি কিডনি প্রতিস্থাপনের বিপুল খরচই এখন আল আমিনের পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করে অবসর নেওয়া আল আমিনের বাবা আব্দুর রহিম বিএসসির পক্ষে এত পরিমাণ টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।

আবেগজড়িত কণ্ঠে আল আমিনের বাবা বলেন, আমি সাধারণ পরিবারের একজন মানুষ। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় দায়িত্ব পালন করেছি। স্বল্প আয়ের মানুষ হিসেবে ছেলের চিকিৎসার এত বড় ব্যয় বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে যেটুকু সহযোগিতা পেয়েছি, তা দিয়ে চিকিৎসার ব্যয় চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরেও যেতে পারছি না, আবার কিডনি প্রতিস্থাপনের টাকাও জোগাড় করতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা বলেন, আমার ছেলের কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে সে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে আমার সন্তানকে বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হবে। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাও আমার সন্তানের মুখে সারাজীবনের হাসি ফিরিয়ে দিতে পারে।

আল আমিনের পরিবার এখন অসহায় হয়ে সমাজের হৃদয়বান মানুষদের দিকে তাকিয়ে আছেন। একটি মেধাবী তরুণের জীবন যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রবাসীসহ সামর্থ্যবান সবাইকে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পরিবারটি।

আপনার সামান্য সহযোগিতাই হতে পারে আল আমিনের নতুন জীবনের আশার আলো।

সহযোগিতার জন্য আগ্রহীদের ০১৮৮৩-২৪২৬৯২ (বিকাশ), ব্যাংক হিসাব নম্বর: ০২০০০০৩৪৫৪৫৪৫
ব্যাংক: অগ্রণী ব্যাংক,শাখা: সখীপুর বাজার শাখা, টাঙ্গাইল এই ঠিকানায় যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।