বাংলাদেশের পাসপোর্ট সেবা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর বন্ধের দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি সচেতন মহল। জেদ্দায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সেবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশিদের হাতে হস্তান্তরের বিষয়ে ঢাকা পোস্টসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমানে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের খবর প্রচার হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা বলেন, সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। প্রবাসীদের পাসপোর্ট সেবা সহজ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রাদেশিক অঞ্চলে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। কিন্তু এই সেবা ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত রেখে প্রবাসীদের একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল করে রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তারা বলেন, প্রবাসীদের দুর্ভোগ দেখিয়ে কোনো বিদেশি শক্তির কাছে দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য তুলে দিয়ে দেশের মানুষকে বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আয়োজকরা আরও বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়ে হয় না, ডেটা দিয়েও হয়। একটি দেশের নাগরিকদের ডেটাবেজ সেই দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই তথ্য বিদেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে গেলে তা দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাদের দাবি, প্রবাসী সেবা কেন্দ্রগুলোতে ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালু থাকলে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কমে আসত।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানকে এই পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। নিজ দেশের পাসপোর্ট সেবা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হলে পাসপোর্টের নিরাপত্তা, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং তথ্য পাচারের মতো বিষয়গুলোতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং প্রবাসীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকলে তা থেকে সরে আসার দাবি জানান প্রবাসী সচেতন মহলের নেতারা।
তারা বলেন, বিদেশিদের হাতে পাসপোর্ট সেবা না দিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়বে।