আক্রমণাত্মক ভিমরুল

ভয়ংকর, জেদি ও তীব্র আক্রমণাত্মক ভিমরুল মানুষের জন্য বিপজ্জনক। এরা ছোট পতঙ্গ হলেও এদের হুল ফোটানোর ক্ষমতা এবং দলবদ্ধ আক্রমণ স্বভাবের কারণে তারা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ভিমরুলরা তাদের বাসার কাছাকাছি কোনো মানুষ বা প্রাণীর উপস্থিতি টের পেলে হুমকি মনে করে। এরপরই শুরু হয় দলবদ্ধ তীব্র আক্রমণ। কাউকে হুল ফোটালে বা বিপদে পড়লে তারা বাতাসে এক ধরনের রাসায়নিক (ফেরোমন) ছড়ায়। এর গন্ধ পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে শত শত ভিমরুল একসঙ্গে আক্রমণ করে। তাদের গায়ে বাঘের মতো হলুদ-কালো ডোরাকাটা রঙ, আকারে প্রায় দুই ইঞ্চি, সঙ্গে শক্তিশালী হুল। ভিমরুলদের পাওয়া যায় মূলত এশিয়ায়। সম্প্রতি ভয়ংকর এই প্রাণীর দেখা মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রে। সমস্ত সাপের বিষ থাকে না। কিন্তু সব ভিমরুলের বিষ থাকে, যা মানুষের দেহে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যে ধরনের পোকামাকড় হুলের মাধ্যমে বিষ ছড়ায়, এর মধ্যে ভিমরুলের বিষের শক্তি সবচেয়ে বেশি। তাদের বিষে ‘অ্যাসিটাইলকোলিন’সহ বিষাক্ত কিছু পদার্থের মিশ্রণ থাকে। ৬০ কেজি ওজনের সুস্থ একজন ব্যক্তির দেহে ৬০০ মিলিগ্রাম বিষ প্রবেশ করলে তার মৃত্যু হবে। যে কারণে একসঙ্গে অনেক ভিমরুল কামড়ালে মানুষের প্রাণহানি নিশ্চিত। রানী ভিমরুল ১ বছর, কর্মী নারী ভিমরুল ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ ও পুরুষ ভিমরুল (ড্রোন) ২ থেকে ৩ সপ্তাহ বাঁচে। ছাদের কার্নিশ, বারান্দার সানশেড বা জানালার বাইরের বাড়তি অংশে লক্ষ রাখুন। বাসাবাড়িতে যাতে ভিমরুল না থাকতে পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার।