আপনার কিডনির খবর রাখুন

গত সপ্তাহে রাতে দু-তিনবার প্রস্রাব করার জন্য উঠেছেন? ভেবেছেন শুধুই বয়সের দোষ, বেশি পানি খাওয়ার ফল? শরীরে আপনার এক জোড়া ছোট্ট ছাঁকনি আছে। দিন-রাত তারা রক্ত ছেঁকে ময়লা বের করে দিচ্ছে, দরকারি জিনিস ফেরত পাঠাচ্ছে। এই ছাঁকনির নাম কিডনি।

লক্ষণ

          প্রস্রাবের রঙ বদলে যাওয়া। শুরুতে বারবার প্রস্রাব পায়, রাতেও ঘুম ভাঙে, কারণ ছাঁকনি পানি ধরে রাখতে পারছে না। প্রস্রাব কমতে থাকে, রঙ বদলায়, কখনো ফ্যাকাশে পানির মতো, কখনো গাঢ়। ফেনা বা লালচে-বাদামি আভা আসছে? বুঝবেন জালে ফুটো হচ্ছে।

          দম ফুরিয়ে আসা ছাঁকনি ময়লা ছাঁকতে না পারলে শরীরে পানি জমে, সেই পানি বসে ফুসফুসের চারপাশে। সিঁড়ি ভাঙতেই হাঁপ ধরে, পা ফুলে যায়, চোখের পাতা ভারী লাগে।

          শরীরে শক্তি না থাকা। কিডনি হাড়ের কারখানায় বার্তা পাঠায় ‘নতুন রক্ত বানাও।’ ছাঁকনি দুর্বল হলে বার্তা পৌঁছায় না, রক্ত কমে যায়। সারা দিন ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, হাত-পা ঠা-া, মুখ ফ্যাকাশেÑ এটাই রক্তাল্পতা।

          মাথা গুলিয়ে যাওয়া। ছাঁকনি যে ময়লা ধুয়ে ফেলত, সেটা এখন রক্তেই ঘোরে। দূষিত রক্ত মাথায় পৌঁছালে অস্থির লাগে, মনোযোগ বসে না, কথা জড়িয়ে যায়। বহুদিন অবহেলা করলে ঘুম ঘুম ভাব, জ্ঞান হারানো পর্যন্ত হতে পারে।

          খাবারে রুচি চলে যাওয়া। ছাঁকনি যে ঝাঁজালো গ্যাস ধুয়ে বের করত, তা মুখে ধাতব বা অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ ফেলে। খাবার দেখলেই বমি ভাব, পেট ভরা মনে হয়, ওজন কমতে থাকে।

          গা চুলকানো। রক্তে ফসফরাস জমে চামড়ার নিচে খচখচ করে। দানা নেই, ফুসকুড়ি নেই, শুধুই চুলকানি।

          সর্বাঙ্গে ব্যথা। কোমরের দুপাশে ভারী টান, হাড়ে টনটনে ভাব, জয়েন্টে ব্যথা। হাড় মজবুত রাখার ভারসাম্য কিডনিই ঠিক করত, সেটা নষ্ট হলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে।

একটু মিলিয়ে দেখুন

প্রস্রাবে ফেনা হয়? রাতে দুবারের বেশি ওঠেন? পা বা চোখের পাতা ফোলে? কারণ ছাড়াই গা চুলকায়?

একটাতেও হ্যাঁ হলে অবহেলা করবেন না। আপনার পরিবারে কি কেউ কিডনি রোগে ভুগেছেন? বাবা-মা বা দাদা-দাদির মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখেছেন কখনো? এ রকম হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। উপসর্গ

থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, নিজের মতো টোটকা বা ওষুধ খাবেন না।