পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় একটি ট্রলারে অভিযান চালিয়ে ২২০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় মাংস পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ভরতকাঠি বেলুয়া নদীর খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি কাঠবডির ট্রলার থেকে এসব মাংস উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার খাসতবক গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে মো. খলিল হাওলাদার (৪১) এবং একই উপজেলার তাফালবাড়িয়া গ্রামের চান মিয়া ফরাজির ছেলে বাবুল ফরাজি (৪২)।
দৈহারী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে ভরতকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কাঠবডির ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে ২২০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। পরে মাংস বহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে খলিল হাওলাদার ও বাবুল ফরাজিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দৈহারী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভরতকাঠি খেয়াঘাট থেকে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বরগুনার পাথরঘাটা এলাকা থেকে বিভিন্ন নৌপথে নেছারাবাদে অবৈধভাবে হরিণের মাংস আনা হচ্ছে। কাঠ, গোলপাতা ও মাছ ধরার ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযানে এসব মাংস পরিবহন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে নেছারাবাদের বিভিন্ন এলাকায় থাকা কথিত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছে এসব মাংস পৌঁছে দেওয়া হয়।
তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে হরিণের মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন আটক হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এ অবৈধ বাণিজ্য।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।