নেপালে সুড়ঙ্গে আটকা কয়েকশ শ্রমিক

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দুর্যোগের ছয় দিন পেরিয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের একটি অংশ কাদা ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় অর্ধডজন সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন। চীন ও ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নেপালের উদ্ধারকারী দলগুলো রাতভর বিভিন্ন সুড়ঙ্গে প্রবেশের পথ পরিষ্কারের চেষ্টা চালিয়েছে। গতকাল সোমবার নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টি ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় গত কয়েক দিন উদ্ধার অভিযান একাধিকবার স্থগিত করতে হয়েছে। নেপাল ও চীন সীমান্তে দুর্যোগের কারণে একটি হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়েছে। সেটি উপচে পড়ায় নেপালের নদীগুলোতে নতুন করে পানির প্রবাহ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে গতকাল আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকায় উদ্ধারকাজের গতি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার।

উদ্ধারকারীদের মূল লক্ষ্য এখন এসব সুড়ঙ্গে প্রবেশের পথ খুলে দেওয়া। তবে বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথরের ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিস্ফোরক ব্যবহার করে পথ তৈরির সুযোগও নেই বলে জানিয়েছেন উদ্ধারসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নেপালের সেনাবাহিনীসহ প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধার অভিযানে যুক্ত রয়েছেন। তাদের সঙ্গে বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করছেন। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, প্রবেশপথ নিরাপদ করা সম্ভব হলে অক্সিজেন সরবরাহের সরঞ্জাম ও ক্যামেরা নিয়ে উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করবে। এতে সেখানে কেউ জীবিত অবস্থায় আছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

গত বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর বরফ, পাথর, কাদা ও পানির বিশাল স্রোত নেমে আসে। এতে নেপালের বিভিন্ন শহর ও গ্রাম ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত অঞ্চলও দুর্যোগের কবলে পড়ে। গতকাল সোমবারও সবচেয়ে বেশি ২৭২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। দুর্যোগকবলিত পাহাড়ি এলাকা রাসুয়া থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ানের দেবঘাট বনাঞ্চলে শত শত লাশের জন্য গণকবর খোঁড়া হয়েছে। ভেসে আসা লাশগুলো শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার পর কবর দেওয়া হচ্ছে। চিতওয়ানের ভরতপুরের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আর্য জানান, স্রোতে ভেসে আসা মরদেহগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে। ফলে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি এড়াতে তাদের দ্রুত এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

এ ছাড়াও পূর্ব নওয়ালপরাসি থেকে ২০৭টি এবং পশ্চিম নওয়ালপরাসি ১৫১টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নুয়াকোটে ৯৫, গোর্খায় ৬২, ধাদিংয়ে ৫৫, তানাহুনে ৩৭ এবং রাসুয়ায় ২৪টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষের সোমবারের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে বন্যায় ৯০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন, যাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। অন্যদিকে চীনা কর্র্তৃপক্ষের হিসাবে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশির সংখ্যা ২৬১ জন, যাদের মধ্যে শতাধিক নেপালি নাগরিক।