ছোটপর্দার এই সময়ের ব্যস্ত ও জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খান। বৈচিত্র্যময় অভিনয় দিয়ে অল্প সময়েই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। কাজ, ক্যারিয়ারের নানা দিক, অভিনয় ভাবনা এবং বড় পর্দা ঘিরে স্বপ্নের কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ
সম্প্রতি ইউটিউবে উন্মুক্ত হয়েছে আপনার অভিনীত নাটক ‘তুমি এসেছিলে পরশু’। নাটকটির কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
খুবই ভালো সাড়া পাচ্ছি। তিন দিনেই নাটকটি দেখেছে ২২ লাখের বেশি দর্শক। আমার সহশিল্পী এ নাটকে ফারিহা রহমান পারু। নাটকের গল্প দর্শক পছন্দ করছেন। এ ছাড়া আরেক নাটক ‘পজেশন’ও একই সময়ে উন্মুক্ত হয়েছে। এটি অভিনয় করেছি সুনেরার সঙ্গে, এ নাটকটিও ভালো লাগবে দর্শকের। ফারিহা রহমান পারুর সঙ্গে ‘প্রেম আমার’, ‘প্রেম আমার ২’ নাটক দুটিও দর্শক বেশ উপভোগ করছে। একটির ভিউ ২১ মিলিয়ন, আরেকটি ১১ মিলিয়ন ভিউ।
ফারিহা রহমান পারুর সঙ্গে আপনার রসায়ন দর্শক বেশ পছন্দ করেছে। অভিনয়ে ‘জুটি প্রথা’ কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?
জুটি প্রথায় আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা বিশ্বাস করি না। আমার মনে হয়, জুটিনির্ভর হয়ে পড়া একজন অভিনেতার জন্য এক ধরনের দুর্বলতা। জুটি বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়; বরং প্রতিটি অভিনেতা-অভিনেত্রীর নিজস্ব যোগ্যতায় ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা উচিত।
জুটিকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণ কী?
কারণ কোনো জুটি যখন অতিরিক্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং পরবর্তী সময়ে তা ভেঙে যায়, তখন শিল্পীদের আগের সেই জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে বেশ কষ্ট হয়। তাই জুটির ওপর ভর না করে প্রত্যেকের উচিত নিজের অভিনয়দক্ষতা দিয়েই দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া। ফারিহা রহমান পারুর কথা যদি বলি, ও একেবারেই নতুন এবং ফ্রেশ একজন শিল্পী। ওর অভিনয়ে কোনো বাঁধাধরা ভাব নেই, যা-ই করে তার মধ্যে চমৎকার একটি স্বাভাবিকতা ফুটে ওঠে। সেই ফ্রেশ জায়গা থেকেই কাজগুলো দর্শক পছন্দ করছেন।
এখন কোনো নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
দেশে ফেরার পর আজই প্রথম নাটকের শুটিং করলাম। নাটকটির নাম ‘অভিযোগ ছিল না’। বেশ যতœ নিয়ে নাটকটির কাজ শুরু করেছি, আশা করছি দর্শক ভালো একটি কাজ পেতে যাচ্ছেন।
যেদিন কোনো কাজ থাকে না, সেদিন সময় কীভাবে কাটে?
যেদিন হাতে কোনো কাজ থাকে না, সেদিন একদম নিভে যাই। কী করব সেটা ভাবতে ভাবতেই আসলে পুরো সময়টা কেটে যায়!
মাথায় অন্য কোনো কিছু কাজ করে না, আর আগে থেকে কোনো প্ল্যানও করা থাকে না।
সিনেমা দেখা, গান শোনা নাকি খেলাধুলা, কোনটি বেশি উপভোগ করেন?
তিনটা তো আসলে তিন রকমের বিষয়। তবে সত্য বলতে, এই তিনটা জিনিসকেই আমি ব্যক্তিগতভাবে ভীষণ উপভোগ করি। আলাদা আলাদাভাবে প্রতিটিই আমার খুব পছন্দের।
নিজের অভিনয় যখন পর্দায় দেখেন, তখন কেমন অনুভূতি হয়?
পর্দায় যখন নিজেকে দেখি, সত্যি খুব লজ্জা লাগে! একই সঙ্গে ভেতরে অন্যরকম একটা আবেগও কাজ করে। আমি অভিনয় করি, নিজেকে টিভিতে দেখছি, বিষয়টি আমার কাছে এখনো বেশ অলৌকিক আর আশীর্বাদের মতো মনে হয়।
একটার পর একটা কাজ করছেন। কোন কাজগুলোকে এগিয়ে রাখবেন?
আমি আসলে আমার কোনো কাজকে আলাদা করে এগিয়ে বা পিছিয়ে রাখতে চাই না। আমার মনে হয়, প্রতিটি কাজই তার নিজ নিজ যোগ্যতা ও গুণে নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে।
ছোটপর্দার তারকাদের অনেকেরই লক্ষ্য থাকে বড়পর্দা। সিনেমা নিয়ে আপনার স্বপ্নের কথা জানতে চাই...
বড় পর্দায় কাজ করার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে, আমারও আছে। তবে আমি চাই প্রপার কমার্শিয়াল সিনেমা করতে; যা হবে একদম সাধারণ আপামর জনসাধারণের জন্য। সিনেমা রিলিজের পর যেন এটা বলতে না হয় যে, এটা অমুক নির্দিষ্ট দর্শকের জন্য বানানো কিংবা ওমুক ক্লাসের জন্য। আমি চাই আমার সিনেমা দেখবে একটি বাড়ির মালিক থেকে শুরু করে সেই বাড়ির কেয়ারটেকার পর্যন্ত সবাই! এক্সপেরিমেন্টাল কাজ হয়তো পরে করা যাবে, তবে শুরুটা একদম গণমানুষের সিনেমা দিয়েই করতে চাই।
দেশ-বিদেশের কোন অভিনেতার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হন বা অনুপ্রাণিত হন?
আমি সারাটা জীবন হুমায়ুন ফরীদি স্যারকে দেখে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছি। এখন তো আর তাকে সরাসরি দেখার সুযোগ নেই, তবে কোথাও গেলে যদি তার কথা ওঠে, তাকে নিয়ে আলোচনা হয়, আমি খুব মন দিয়ে সেগুলো শুনি। মনে হয় যেন আমিও সেই আড্ডার বা গল্পের ভেতর ট্রাভেল করছি।
ইন্ডাস্ট্রিতে কাউকে কি প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয়? কার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পান?
এখানে আসলে কাউকেই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয় না। সবার ক্ষেত্রেই একটা বিষয় কাজ করে, তা হলো অনুপ্রেরণা। প্রতিটি মানুষের কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হই। তবে হ্যাঁ, আমার একটা ইচ্ছা আছে; শাকিব ভাইয়ের যেমন বিশাল একটা ফ্যানবেস আছে, জীবনে আমারও যেন তেমন বড় ফ্যানবেস তৈরি হয় এবং তার মতো লম্বা সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে পারি।