পিলারবিহীন মসজিদ

বড় এক গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার, পিলারবিহীন সুবিশাল অভ্যন্তর আর তুর্কি স্থাপত্যশৈলীর নান্দনিকতা সব মিলিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ক্যাম্পাসের অন্যতম অনন্য স্থাপনা। প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই মসজিদ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইবাদতের স্থান নয় বরং এর সৌন্দর্য ও স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলীর কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের কাছেও এটি আকর্ষণের কেন্দ্র। প্রায় পাঁচ দশক ধরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন, ইসলামি জ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃতি ও চর্চার পাশাপাশি নান্দনিকতায়ও নিজস্ব অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে মসজিদটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরোতেই প্রশাসনিক ভবন। এ ভবনের ডান দিকে একটু সামনে গেলেই চোখে পড়ে মুসলিম স্থাপত্যের আদলে নির্মিত সুউচ্চ মিনার। এর পাশেই কেন্দ্রীয় মসজিদটি। মসজিদের সৌন্দর্য বাড়াতে চারদিকে স্থাপন করা হয়েছে লাইটপোস্ট ও বিভিন্ন স্থাপনা। এই মসজিদে কোনো পিলার নেই। মূল কাঠামোর মধ্যবর্তী স্থানে ওপরে নির্মাণ করা হয়েছে বিশালাকার গম্বুজ। শ্বত-শুভ্র ঝাড়বাতিগুলো খুবই মনোরম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭০ সালের ১৩ এপ্রিল এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। শেষ হয় ১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে। মূল কাঠামোর দৈর্ঘ্য ৫২ গজ ও প্রস্থ ৫২ গজ। ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের নকশাপ্রণেতা আবদুল হুসেইন এম থারিয়ানির নকশার আলোকে এই মসজিদ নির্মিত হয়।

মসজিদটির নির্মাণ ব্যয় তৎকালীন সময়ে ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরে কাজ শেষ করতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৮ লাখ টাকা। মসজিদের বারান্দা ও বারান্দার বাইরের যে অংশ রয়েছে, তা মূল কাঠামোর প্রায় দ্বিগুণ। মূল ভবনের অভ্যন্তরে প্রায় ৫০০ মুসল্লির ধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে বাইরের ফাঁকা জায়গাসহ এই মসজিদে প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদের আঙিনাকে মূল ক্যাম্পাস থেকে পৃথক রাখা ও পবিত্রতা রক্ষার্থে চারপাশে রয়েছে দেয়াল। আঙিনাজুড়ে রয়েছে সারিবদ্ধ ঝাউগাছ।

দক্ষিণ-পূর্ব পাশে রয়েছে ফোয়ারা, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক অজুখানা, অফিসকক্ষ, শৌচাগার ও ইমামের থাকার ব্যবস্থা। এ ছাড়া রয়েছে হরেক রকমের ফলের গাছ ও ঈদগাহ। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মাওলানা জামাল উদ্দিন।

মসজিদের অজুখানার পাশেই রয়েছে সমৃদ্ধ পাঠাগার। পাঠাগারটি মুসল্লিদের জন্য আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত খোলা থাকে। মসজিদটিতে বর্তমানে সিনিয়র পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাওলানা ফাহিম মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘মসজিদটির ভেতরের অংশ তুর্কি স্থাপত্যশৈলীতে নকশা করা। মসজিদের পাঠাগারটিকে আরও সমৃদ্ধ করার দাবি জানান তিনি। পাঠাগারটি জোহরের নামাজের পর থেকে এশার নামাজের পূর্ব পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন মুসল্লিরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জুনায়েদ সোবহান বলেন, ‘ভিন্নধর্মী স্থাপত্যশৈলীর জন্য মসজিদটি বেশ পরিচিত। এই মসজিদটিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রও বলা যায়।’