রংপুরে ৪ খুন

সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী-সন্তানদের হত্যাকা-ের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। গতকাল সোমবার দুপুরে এ তথ্য জানান রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, হত্যার ঘটনায় কারাগারে থাকা দুই আসামির নমুনা পরীক্ষা করে এমফিটামিনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ডোপ টেস্টে তাদের শরীরে মাদকের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এদিকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।

ডোপ টেস্টের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনার ১০ দিন পর নমুনা সংগ্রহের কারণে টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। মাদক সেবনকারীদের ডোপ টেস্টের রিপোর্ট ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত পজিটিভ পাওয়া যায়। তবে গ্রেপ্তারের পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানায়, হত্যাকা-ের সময় তারা চরম উন্মাদনা ও মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিল।

এর আগে গত রবিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করে। ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া না গেলেও এতে চার খুনের তদন্তের অন্য দিকগুলো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে না। আসামিদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করেই মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, ঘটনার ১০ দিন পর ডোপ টেস্ট করানো হলো। কিন্তু যারা মাদক সেবন করে, তাদের ইউরিনে ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়। টেস্ট করতেই দেরি হয়েছে। তারা মাদকাসক্ত কিনা ৭ দিনের মধ্যে ডোপ টেস্ট করলে বোঝা যেত। যেহেতু ১০ দিন পর ডোপ টেস্ট করা হয়েছে, তাই তারা মাদকাসক্ত নয় এটাও বলা যাবে না।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকার ও প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় দুইজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দেন।

এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় এবং সামাজিক সম্মানের ভয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের অন্য তিনজনকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এদিন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ৮-৯ বার ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জানায় পুলিশ।

জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি : এ হত্যা মামলায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুইদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। এর আগে আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকর্মকর্তা। গতকাল দুপুরে মেট্রোপলিটন চিফ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলাম এই অনুমতি দেন। উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, একই পরিবারের চারজনকে হত্যা ঘটনায় নতুন কিছু তথ্য আসায় সেগুলো ক্রস চেক করার জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে রিমান্ডের প্রয়োজন। তাই আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুইদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।