উত্তরপ্রদেশে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১১

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বি জেলায় একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। খবর এনডিটিভি।

সোমবার দুপুরে জেলার পিপরি থানার অন্তর্গত মানোরি গ্রামের বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে এ বিস্ফোরণ ঘটে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) অমিত পাল জানান, বিস্ফোরণের পর ১১ জন আহতকে প্রয়াগরাজের এসআরএন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আরও ৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত সবাই কারখানাটির আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় ১৮ জনের বেশি মানুষ আহত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের স্থাপনাগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কারখানার পাশের পাঁচ থেকে ছয়টি বাড়ি ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ঘটনার পর পুলিশ, দমকল, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং কাছাকাছি থাকা ভারতীয় বিমানবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঘটনাস্থলে এক ডজনের বেশি দমকলের গাড়ি ও প্রায় দুই ডজন অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে বিমানবাহিনীর ৫০ জনের বেশি সদস্যও অংশ নিচ্ছেন।

ধ্বংসস্তূপ সরাতে প্রায় ১০টি বুলডোজার ও খননযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধান করছেন।

বিস্ফোরণের প্রভাবে একটি উচ্চক্ষমতার বিদ্যুতের খুঁটি ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।

ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে দিল্লি-হাওড়া রেলপথ যাওয়ায় বিস্ফোরণের পর প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছে যাওয়া আজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেসকে মানোরি স্টেশনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে দিল্লি থেকে বারাণসীগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসকে ঘটনাস্থলের আগের স্টেশন সৈয়দ সরাওয়ানে থামিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের স্বজনদের প্রত্যেককে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।