বাংলাদেশিসহ আহত ৬৬

কাতারে কারখানায় বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ১৩ জনের 

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সাদ বিন শ্রেদা আল-কাবি।

সোমবার (২২ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহীও আল-কাবি জানান, রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় রাস লাফান শিল্পনগরীর বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে পরিচালন কার্যক্রম শুরু করার সময় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনায় ৬৬ জন আহতও হয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে ভারত, কাতার, তানজানিয়া, পাকিস্তান, গিনি, নেপাল, বাংলাদেশ, কেনিয়া ও নাইজেরিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

আল-কাবি জানান, নিহত ১৩ জন ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হলেও, এর মধ্যে ঠিক কতজন কোন দেশের নাগরিক, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি আরও জানায়, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে থাকা এএফপির একজন সাংবাদিকও রাতের আকাশে আগুনের বড় শিখা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখেছেন। বিস্ফোরণের পর কারখানার ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।

এদিকে, দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে দূতাবাস বলেছে, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।

নিহত ও আহতদের পরিবারের সহায়তার জন্য দূতাবাস দুটি হেল্পলাইন নম্বর (+974-55647502, +974-55384683) এবং ই-মেইল ([email protected]) চালু করেছে।

কাতারএনার্জি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই জরুরি পরিষেবার দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্রটি সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে আগেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই যুদ্ধে ইরানি হামলায় কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কাতার গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত