নেপাল-চীনে নিহত ১০০০ ছাড়াল, জলবায়ু নিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান বালেন্দ্র শাহ’র

হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনের নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। দুই দেশে এখনো চার হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এদিকে, ওই ভয়াবহ দুর্যোগের পর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপাল যেসব ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। 

দ্য হিন্দু’র খবরে বলা হয়, সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বালে বালেন্দ্র শাহ বলেন, রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীর আকস্মিক বন্যা কোনো সাধারণ বন্যা ছিল না। হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের একটি বিশাল ধসের কারণে এই দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান। 

তিনি বলেন, ‘এটি ওই অঞ্চলের অন্যতম বড় দুর্যোগ। হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের ধস থেকে এর সূত্রপাত হয়েছে।’ 

প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে মানুষের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে—এমন একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় অঞ্চলটিকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।

এ কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নেপালের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যেসব দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছি, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরার এখনই সময়,’ বলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। 

এদিকে, সিএনএন জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নেপাল ও চীনের নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। দুই দেশে এখনো চার হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের কর্মকর্তারা।   

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র এখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার উদ্ধার অভিযানের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এসব এলাকায় এখনও প্রায় ৬০০ মানুষ আটকে রয়েছেন। তবে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলজুড়ে এ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাও পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। 

হিমালয়ের এই সংকট শুধু নেপালের জন্য নয়, পুরো এশিয়ার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বৃহত্তর হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে নেমে আসা হিমবাহের পানি পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ২৪ কোটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস। একই পানি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী অববাহিকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে জাতিসংঘ। ২০২৩ সালে নেপাল সফরের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছিলেন, হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়ছে’। 

সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্যোগের পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েলও হিমালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘পাহাড়ি পরিবেশ কতটা নাজুক হতে পারে, তার এক ভয়াবহ স্মারক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 এদিকে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের সম্পদ সীমিত হওয়ায় দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনে যেসব দেশ তুলনামূলকভাবে কম অবদান রেখেছে, তাদেরই যখন ক্রমবর্ধমান জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তখন নেপালের মতো দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।