নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শত শত মানুষকে উদ্ধারে তৎপরতা আরও জোরদার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আটকে পড়াদের মধ্যে ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর সিএনএন এর।
ভূমিধসে নেপালে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীন ও ভারতের বিশেষজ্ঞসহ উদ্ধারকারী দলগুলো সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে পড়াদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নেপালে নিখোঁজ ২ হাজার ৫০০ মানুষের মধ্যে শত শত জন দেশটির বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে তিব্বতে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৬ জন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে আরও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সিএনএনের এক প্রতিবেদক।
সোমবারের (৩১ আগস্ট) এক হালনাগাদ তথ্যে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে জমে থাকা হ্রদটি ‘স্বাভাবিকভাবেই পানি ছেড়ে দিয়েছে’ এবং পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত গিয়িরং এলাকায় ‘টানা বৃষ্টিপাত’ অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কিছু অংশে এক মিটারেরও বেশি পুরু পলির স্তর জমেছে। এতে ধ্বংসস্তূপ ও পলির নিচে মানুষের আটকে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনও উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ১১৭ জন দমকলকর্মী ও ১৩টি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর মোতায়েন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত দুই দফা তল্লাশি অভিযান শেষ হয়েছে।
নেপালে বন্যা: যেভাবে হিমবাহ ধস থেকে বিপর্যয়ের সৃষ্টি
নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলায় ৩১ মিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইল রেড ক্রস