দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছর এডিস মশাবাহিত এই রোগে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩২৪ জন রোগী। ফলে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০২ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৭০ জনে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া দৈনিক ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৫৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৯ জন, বরিশালে ১২১ জন, রাজশাহীতে ১১৪ জন, ময়মনসিংহে ৮৭ জন, রংপুরে ৩৪ জন এবং সিলেট বিভাগে পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১০২ জনের মধ্যে নারী ৫৮ জন এবং পুরুষ ৪৪ জন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১২১, চট্টগ্রামে ১৩৯, খুলনায় ২৪৬, ময়মনসিংহে ৮৭, রাজশাহীতে ১১৪, রংপুরে ৩৪ এবং সিলেটে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে চট্টগ্রামেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ১০৮ জনে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১ হাজার ৭৭৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৩৩২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ১০৮ জন।
তবে গত ২৪ ঘণ্টার তথ্যের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনের একটি সারণিতে সরকারি হাসপাতালে ছয়জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৭২ জন রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সারণির মোট হিসাবে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭২ জন দেখানো হয়েছে।
চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ১ হাজার ৯৩৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ডেঙ্গুতে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তদের একটি অংশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাংলাদেশ ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ইনস্টিটিউটে (বিআইটিআইডি) চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নগরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক পরিসংখ্যান এবং চট্টগ্রামের স্থানীয় পরিস্থিতি—দুই ক্ষেত্রেই ডেঙ্গু সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বিস্তার বাড়ায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা নিধন, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তিগতভাবে মশার কামড় থেকে সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।