স্ট্যাম্প চুক্তিতে হচ্ছে সরকারি জমি বিক্রি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বোয়ালী ইউনিয়নের চা-বাগান বাজারের সরকারি জমি ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে একদল দখলকারীর বিরুদ্ধে। সরকারি জমির দলিল দেওয়া যায় না বিধায় স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে জমি হস্তান্তর করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। পাশের একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নাকের ডগায় অবৈধভাবে সরকারি জমি ক্রয়-বিক্রয় করা হলেও অজ্ঞাত কারণে নীরব দর্শকের ভূমিকায় সংশ্লিষ্টরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী ও ক্রেতা-বিক্রেতা সূত্রে জানা গেছে, তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত ওই বাজারে দেড় শতাধিক দোকানপাটের মধ্যে শতাধিক দোকানপাটই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে সরকারি জমিতে। জবর-দখলকারীরা অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে তোলায় রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সম্প্রতি ওই এলাকার মৃত শামসুদ্দিন সরকারের ছেলে সোহেল সরকার, তার সৎ মা রমিছা বেগম ও এক সৎ বোন বাজারের সরকারি জমিসহ ৩/৪টি দোকান স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে বিক্রয় করে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওই বাজারের কাছে ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নাকের ডগায় এসব বেচাবিক্রি হলেও তারা কর্মকর্তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে।

সম্প্রতি বাজারে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা একটি দোকান কিনেছেন দেলোয়ার হোসেন দুলু। তিনি বলেন, ‘শুনেছি এটা সরকারি সম্পত্তি। শামসুদ্দিন সরকারের ওয়ারিশরা জমি লিজ নিয়ে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছিল। আমি তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে হোটেল ব্যবসা করে আসছি। কিন্তু আমি জমি সংক্রান্ত বিষয় কিছু বুঝি না। তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়ে বলেছে এই সরকারী জমি বিক্রি করে দিবে। এ জন্য ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে প্রায় দীর্ঘ ২২ ও প্রস্থ ২১ ফুট পরিমান জমি কিনে রেখেছি। তারা স্ট্যাম্প করে দিয়ে বলেছেন, এই জমি আমার নামে লিজ নিয়ে দিবেন। তাছাড়া, এই বাজারে এভাবেই স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমি বেচা-কেনা হচ্ছে। তাই সবার যে গতি হবে, আমারও সে গতিই হবে। এটা ভেবেই এই জমি কিনে রাখলাম।’

আরেক ক্রেতা ঢাকা হোটেলের মালিক নুরুল আমিন জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নিয়ে এখানে হোটেল ব্যবসা করে আসছি। ১/২ বছর আগে সোহেল সরকারের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকায় এটি কিনেছি।’

ওই পরিবার ছাড়াও অন্যদের কাছ থেকেও এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অনেকে সরকারী জমি কিনে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এ ব্যাপারে সোহেল সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তার সৎ মা রমিছা বেগম বলেন, ‘ওই জমির পাশে আমাদের রেকর্ডীয় জমি। সে সুবাদে ওই জমি তো আমরাই ভোগ করব। ওই জমি আমরা লিজ নিয়েছি। এটা সংশ্লিষ্ট অফিসও জানে। আমাদের প্রয়োজন ছিল বলেই জমি বিক্রি করেছি। আমরা ছাড়াও আরো অনেকেই এভাবে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করেছেন। এটা নিউজ করার কী আছে?’

ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আমিনুল হক জানান, ওই বাজারে প্রায় ২৭৮ শতাংশ সরকারি সম্পত্তি আছে। সেসব বিক্রির বিষয়ে আমাদের জানা নেই। গোপনে স্ট্যাম্প করে জমি হস্তান্তর করে থাকলে সেটা আমাদের জানার কথা না। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, ওই বাজারের জমি পেরিফেরি ভুক্ত। পেরিফেরি তালিকা করে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ওই বাজারের জমি ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। তারপরও যদি ক্রয়-বিক্রয়ের ঘটনা ঘটে, তাহলে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।