সুন্দরবনের আত্মসমর্পণকারী দস্যুর কাছ থেকে ৫৯ অস্ত্র উদ্ধার 

সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত রাখতে র‍্যাবের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন রি-স্টোর পিস ইন সুন্দরবন’-এর আওতায় আত্মসমর্পণকারী পাঁচটি বনদস্যু বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে ৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে ৫৪১ রাউন্ড গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও সাতটি ওয়াকিটকিও উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) র‍্যাব-৬ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের মহাপরিচালক এসব তথ্য জানান।

র‍্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি শর্টগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান ও একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল।

র‍্যাবের মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট সুন্দরবনে সক্রিয় পাঁচটি বনদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন সদস্য রয়েছেন। 

র‍্যাব জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবনে এখনো চার থেকে পাঁচটি বনদস্যু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও র‍্যাব কাজ করছে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা আত্মসমর্পণ না করে দস্যুতা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা, বনজীবীদের নিরাপত্তা এবং বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।