বিএজের মাসিক প্রতিবেদন

হামলা, হয়রানি ও হুমকির শিকার ৫১ সংবাদকর্মী

চলতি বছরের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, কিশোর গ্যাং এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে ১৮টি ঘটনায় অন্তত ৪২ জন সাংবাদকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে)। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিএজে। এ ছাড়া একই সময়ে দেশের মূল ধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে সংগৃহীত তথ্য ও নিজস্ব সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত মাসে অন্তত ৫১ সংবাদকর্মী বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি জানায়, ধারাবাহিকভাবে বিগত দিনের মতো সদ্য বিদায়ী আগস্ট মাসে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জন্য কর্মপরিবেশ ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি  ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন। রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় পথচারী নারীকে পুলিশের মারধরের ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় গ্লোবাল টেলিভিশনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার বুলবুল হোসেনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে অমানবিক নির্যাতন করা হয়।

বিএজে বলে, এ ছাড়া আগস্ট মাসে সাংবাদিকদের ওপর বেশ কয়েকটি ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রদলের হামলায় কামরুজ্জামান কায়েসসহ ছয় সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। রাজধানীর বকশীবাজারেও ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের খবর সংগ্রহকালে দুই সাংবাদিক আহত হন। এ ছাড়া কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকি চক্রের হামলায় চার সাংবাদিক আক্রান্ত হন এবং যশোরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার হামলার শিকার হন স্থানীয় পাঁচ সাংবাদিক।

হামলার শিকারদের মধ্যে রয়েছেন ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি, ওমর আলি সোহাগ, যমুনা টিভির রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, স্টার নিউজের মোহাম্মদ জুবাইর, আবদুল্লাহ আল মারুফ, সময় টিভির বিএম ইস্রাফিল, নিউজ টুয়েন্টি ফোরের বিধান মজুমদার অনি, বাংলাদেশ বেতারের রাব্বি আহমেদ, সমকালের নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।

একই সময়ে সাংবাদিকদের আইনি হয়রানিরও শিকার হতে হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, গত আগস্ট মাসে অন্তত পাঁচজন সাংবাদকর্মী আইনি হয়রানির শিকার হন। এ ছাড়া একই সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হুমকি, হেনস্তা ও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন অন্তত চারজন সাংবাদিক। 

সাংবাদিকদের ওপর চলমান এই আক্রমণ, বাধা ও আইনি হয়রানির জন্য সরকারের বিচারহীনতাই দায়ী বলে মনে করে বিএজে। যা মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য এক অশনিসংকেত। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারকে অনুধাবন করতে হবে যে, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বা পেশী শক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিএজে অবিলম্বে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।