এক দশক পর মিসর সফরে শি জিনপিং

ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির আবহে এক দশক পর মিসর সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল বুধবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন শি। দুই দিনের সফরে কয়েকটি আর্থিক চুক্তি স্বাক্ষরের কথা আছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধও দুই নেতার আলোচ্য সূচিতে রয়েছে। এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কায়রোতে পৌঁছানোর পর শিকে স্বাগত জানান সিসি। ২০১৬ সালের পর এটি তার প্রথম চীন সফর। বিমানবন্দরে তাকে লালগালিচা অভ্যর্থনা জানানো হয়। তার সম্মানে সেনারা কুচকাওয়াচে অংশ নেন, লোক নৃত্যশিল্পীরা নাচ পরিবেশন করেন। শি এমন সময়ে মিসরে এলেন, যখন ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা অংশীদারত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

দেশ দুটি তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর উদযাপন করছে এবং সম্পর্ককে নতুন ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বেইজিং একে ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করছে। ইসরায়েল, সুদান ও লিবিয়া সীমান্তসংলগ্ন এবং সুয়েজ খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বৈশ্বিক শক্তিগুলো ‘মিসর’কে প্রায়ই এই বিশৃঙ্খল অঞ্চলে একটি কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সামরিক অংশীদার মিসর। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বার্ষিক ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পায়। গত মাসে চীনের সঙ্গে তাদের দ্বিতীয় বার্ষিক সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছে মিসর। এ অঞ্চলের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে গত বছর বেইজিং এ যৌথ মহড়া শুরু করে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক এইচ এ হেলিয়ার বলেন, ২০১৪ সালে সিসির চীন সফরে কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করার পর থেকে কায়রো ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মিসরের সাবেক কূটনৈতিক আয়মান জায়নেলদিন বলেন, সম্পর্কের পরিধি বাড়ানো প্রয়াস মিসরের; আর চীনের লক্ষ্য আরব-আফ্রিকা অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিসরে চীনের বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দুই দেশই ব্রিকসের সদস্য। দেশটির উৎপাদন, বন্দর, সৌরশক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মতো খাতগুলোতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। কায়রোর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার।