আমার চোখে আমার মা শ্রেষ্ঠ শিল্পী...

রুপালি পর্দার চিরচেনা মমতাময়ী মা ছয় দশকের অভিনয়জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। মায়ের সেই জানা-অজানা রূপ, জীবনের টানাপড়েন, ক্যারিয়ারের স্মৃতি এবং এক গুণী শিল্পীর মূল্যায়ন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তারই কন্যা, নন্দিত চিত্রনায়িকা মুক্তি। সাক্ষাৎকার ও সম্পাদনায় অনিন্দ্য নাহার হাবীব

প্রশ্ন : পর্দায় পুরো বাংলাদেশ ওনাকে মমতাময়ী মা হিসেবে দেখেছে; কিন্তু একজন সন্তান হিসেবে বাস্তব জীবনে ওনাকে ‘মা’ হিসেবে কেমন পেয়েছেন?

মুক্তি : আমার মা পর্দার বাইরে বাস্তবে যে মা-টা ছিলেন, একেবারেই পারফেক্ট একজন মা ছিলেন। কিন্তু আমার মা সিনেমাতে যে রকম একজন মা ছিলেন যে খুব ইমোশনাল এবং অল্পতেই চোখে পানি, সন্তানের জন্য কান্নাকাটি, অন্যায় করলেও সেটা মেনে নেওয়া বাস্তবে কিন্তু আমার মা আসলে এ রকম ছিলেন না। বাস্তবে হচ্ছে আমার মা শাসন করতেন, আর সেই শাসনটা ছিল ওনার চোখে। আমি এমন কোনো অপরাধ কখনো করিনি যে, খুব জোরে ধমক দেওয়া বা গায়ে হাত তোলা, ওটার তো প্রশ্নই আসে না। আমার বাবা-মা কখনোই আমার গায়ে হাত তোলেননি।

আমার মা ছিলেন কেমন যে ধরেন আমি শুটিংয়ে গেলাম অথবা এমনিতেও কোথাও বাইরে বেড়াতে গেলাম, কেউ আমার সঙ্গে একটু কথা বলছে বা কেমন আছি জিজ্ঞেস করছে মানে ওরকম অত পরিচিত কেউ না এ রকম যদি কেউ হতো, আমার মায়ের চোখ দেখলেই আমি বুঝতে পারতাম যে, উনি এটা পছন্দ করছেন না। চোখেই ওনার শাসনটা বেশি ছিল। বাসার ভেতরেও যেমন একটা থাকে না যে, ঘরের কর্তা, আমার মা-ই কিন্তু সে রকম ছিলেন। মা একটু রাগী ছিলেন, তবে খুব যে চিল্লাচিল্লি করতেন তা না। কোনো কিছু অপছন্দ হলে সঙ্গে সঙ্গেই বলতেন, ‘এটা ঠিক না, এটা এভাবে করবে না।’ আর যদি কোনো কিছু ভালো লাগত, সেটাও চোখে বোঝাতেন যে খুব ভালো হয়েছে।

প্রশ্ন : আপনার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং মা কিংবদন্তি অভিনেত্রী। তাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন পরিচয় ও প্রেমের গল্পটা কেমন ছিল?

মুক্তি : এটা আসলে খুব সুন্দর একটা গল্প! মুক্তিযুদ্ধের সময় আম্মারা ঢাকার মগবাজারে নানার বাসায় থাকতেন। যুদ্ধ শুরু হলে আম্মার পরিবার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় চলে যায়। আর বাবা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন, উনিও কুমিল্লায় গিয়ে ট্রেনিং নেন এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেন।

যুদ্ধের পরপরই কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে বাবার সঙ্গে মায়ের প্রথম দেখা হয়। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, যুদ্ধের আগেই পারিবারিকভাবে অন্য এক পাত্রের সঙ্গে আম্মার এনগেজমেন্ট হয়ে আংটি পরানো ছিল। বাবাকে প্রথম দেখেই আম্মার খুব পছন্দ হয় এত সুন্দর একটা ছেলে, আবার মুক্তিযোদ্ধা! আম্মা তখন ভাবলেন, এমন একটা ছেলে যদি বোন নার্গিসের বর হতো তবে বেশ হতো! এদিকে বাবা তো প্রথম দেখাতেই আম্মার প্রেমে পড়ে গেছেন।

দেশ স্বাধীনের পর ঢাকায় ফিরে নানা যখন ওই পাত্রের খোঁজ নিতে গেলেন, তখন শোনা গেল যুদ্ধের পর তার আর কোনো খোঁজই মেলেনি, হয়তো উনি শহীদ হয়েছেন। পরবর্তী সময় আম্মা যখন আবার গ্রামে যান, তখন বাবার সঙ্গে আবার দেখা হয়। আম্মা বাবাকে সরাসরি বলেন, ‘আপনাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি চাই আমার বোন নার্গিসের সঙ্গে আপনার বিয়ে হোক।’ তখন বাবা মুখের ওপর সরাসরি বলে দেন, ‘কিন্তু আমি তো চাই আপনার সঙ্গে আমার বিয়ে হোক!’ আম্মা তো শুনে একদম চুপ! বাবা বললেন, ‘আমি তো প্রথম দেখাতেই আপনাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম, মনের টানেই আবার গ্রামে এসেছি।’

এরপর তাদের নিয়মিত কথা আর প্রেম শুরু হয়। আম্মা যখন বাবার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন, তখন গ্রামে মুরব্বিদের ভয়ে নার্গিস আন্টি টিউবওয়েলের চাপকল জোরে জোরে চাপতেন, যাতে চাপকলের শব্দে তাদের কথার আওয়াজ কেউ না শুনতে পায়! এভাবে পাঁচ-ছয় বছর তাদের প্রেম চলে। মাঝে দুই পরিবার থেকেই বিয়ে নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল; তখন বাবা তো বিষের বোতল হাতে নিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন যে, বিয়ে না দিলে বিষ খেয়ে মরে যাবেন! অবশেষে সব বাধা কাটিয়ে ১৯৭৮ সালে বেশ ধুমধাম করেই তাদের বিয়ে হয়। আর ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর আমার জন্ম হয়।

আমি তাহাজ্জুদের নামাজে বারবার আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, আল্লাহ আমাকে এমন একটি পরিবারে পাঠিয়েছেন। আমার ডান হাত যদি হয় মুক্তিযোদ্ধা বাবা, তবে বাঁ হাত হচ্ছে আমার কিংবদন্তি মা।

প্রশ্ন : ব্যস্ত শুটিং জীবনের মাঝেও তিনি আপনাদের পরিবার ও সন্তানদের কীভাবে সময় দিতেন?

মুক্তি : আমার মা শুটিংয়ের পরও অনেক সময় দিতেন আমাদেরকে। সকালবেলা উনি যখন শুটিংয়ে যেতেন, রান্না করে যেতেন। সবসময় আমার মায়ের হাতের রান্নাই আমরা খেয়েছি। বাবার যেটা পছন্দ, আমার যেটা পছন্দ সেগুলো উনি রান্না করে যেতেন। তখন তো বাসায় টিএনটি ফোন ছিল; শুটিং থেকে ঢাকার ভেতরে যেখানেই থাকতেন, ফোন দিতেন। ফোনটা দিতেন এজন্যই যে, খাবারটা আমরা ঠিকমতো খেয়েছি কিনা, পানি খেয়েছি কিনা। আমার সিনেমার নাম তো মুক্তি, তবে ডাকনাম সাগরিকা। উনি ফোনে বলতেন, ‘সাগরিকা, তুমি পানি খেয়েছ কিনা? পানি খাও মা।’

আমার বাবা বেশিরভাগ সময় কুমিল্লাতেই কাটিয়েছেন, কারণ উনি ওখানকার দুই দুবারের চেয়ারম্যান ছিলেন। তখনো আমার চাচাদের বা বাবার সঙ্গে যারা থাকতেন, তাদের মা ফোন দিয়ে খবর নিতেন খাবারটা ঠিকমতো দিল কিনা, ডাবের পানি খাওয়ালো কিনা। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও উনি সংসার আর সন্তান সামলেছেন। এমনকি আমাদের বাসার গৃহকর্মীরাও যখন ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যেত, মা তাদের বিদায় দেওয়ার সময় কান্নাকাটি করতেন, ওরাও কাঁদত। মা সপ্তাহে এক-দুই দিন কাজ না রেখে ফ্রি থাকতেন সবাইকে সময় দেওয়ার জন্য। আর শুটিং শেষে রাতে যখন ফিরতেন, সারা দিন মন খারাপ থাকলেও ওনার রাতের আদর আর বুকে জড়িয়ে ধরাতেই সব দূর হয়ে যেত।

প্রশ্ন : ছোটবেলায় যখন বুঝতে পারলেন আপনার মা একজন মহাতারকা বা সেলিব্রিটি, তখন বন্ধুমহল বা বাইরের মানুষের কাছে সেই অনুভূতিটা কেমন ছিল?

মুক্তি : ছোটবেলায় মায়ের সিনেমা আমি হলে গিয়ে দেখতাম। সপরিবারে মিলেই যেতাম। তখনকার গল্প, গান, অভিনয় দেখে আমার কাছে খুব ভালো লাগত। আর মা এবং নার্গিস খালার কাজ দেখে মনে হতো ইশ, আমিও যদি পর্দায় অভিনয় করতে পারতাম!

আমি যখন ভিকারুননিসায় পড়তাম, আমার বান্ধবীর সংখ্যা বরাবরই খুব কম ছিল। আমি সবার সঙ্গেই মিশি, কিন্তু খুব ক্লোজ কাউকে করি না। এখনো আমার বান্ধবীর সংখ্যা মাত্র তিনজন। তো স্কুলে আমার বান্ধবীরা বলত, ‘মুক্তি, তুই অভিনয় কর। তোকে বড় পর্দায় দেখলে কত ভালো লাগবে! আমরা একসঙ্গে সিনেমা দেখব। আন্টি এত সুন্দর কাজ করে!’ বান্ধবীদের এসব কথা শুনে তখন খুব ভালো লাগত। একসময় আমি আম্মাকে বলেই ফেললাম, ‘আম্মা, আমিও অভিনয় করব।’ তখন আম্মা বলেছিলেন, ‘ঠিক আছে, তুমি যখন বড় হবা, নিজে মনে করলে কাজ করবা। কোনো সমস্যা নাই।’ আমাদের পরিবারে কোনো বাধা ছিল না।

প্রশ্ন : আপনি নিজেও তো অভিনয়ে এসেছেন; আপনার ক্যারিয়ার গঠনে মায়ের প্রভাব ঠিক কতটা ছিল? মায়ের মেয়ে হওয়ার কারণে কোনো চাপ অনুভব করেছিলেন?

মুক্তি : একদমই কোনো চাপ ফিল করিনি। ছোটবেলায় তখন ক্লাস করছি, হঠাৎ একদিন ক্যামেরাম্যান রফিক মামা বাসায় এসে আম্মাকে বললেন যে, একটা ভালো সিনেমার জন্য ১১-১২ বছরের মেয়ে দরকার। আম্মা জানতে চাইলেন কার সিনেমা; উনি বললেন গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ছবির ‘গোপী’ চরিত্র। আম্মা শুনে রাজি হলেন। এরপর গৌতম ঘোষ আঙ্কেল আমাদের বাসায় এসে আমাকে দেখে তো হতবাক! আমি অনেক ফর্সা ছিলাম বলে উনি বললেন, ‘এত ফর্সা মেয়েকে মাঝির মেয়ে কীভাবে বানাব?’ পরে উনি বুদ্ধি দিলেন সরিষার তেল মেখে প্রতিদিন এক-দুই ঘণ্টা রোদে বসে থাকার জন্য। এক সপ্তাহ ওভাবে রোদে বসে গায়ের রঙ কালচে বানিয়ে তবেই শুটিং করেছিলাম।

শুটিং স্পটে আমার মা কখনো বলে দেননি যে, এটা এভাবে করো বা সেভাবে করো। উনি বলতেন, ‘ডিরেক্টর যেভাবে বলবে, সেভাবে শুনবে আর কাজটা করবে।’ মা সেলিব্রেটি ছিলেন বলে ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোনো সমস্যা হয়নি, বরং সবাই আমাকে খুব আদর করতেন। মাকে সবাই ‘আনু দি’ ডাকতেন, আর সেই সূত্রে সেটের সবাই আমাকে ‘মামণি’ বলে ডাকতেন। যে কয়টা কাজ করেছি, আলহামদুলিল্লাহ আমার ঝুড়িটা একেবারে সাকসেস।

প্রশ্ন : বাংলা চলচ্চিত্রে আনোয়ারার যে অবদান, একজন সন্তান ও একজন শিল্পী হিসেবে তার এই প্রাপ্তি বা মূল্যায়নকে আপনি কীভাবে দেখেন?

মুক্তি : আমার চোখে আমার মা শ্রেষ্ঠ শিল্পী। উনি টাকার জন্য বা টাকাকে ভালোবেসে অভিনয় করেননি; কাজকে ভালোবেসে, সিনেমা জগৎটাকে ভালোবেসে অভিনয় করেছেন। তবে মূল্যায়নের কথা যদি বলেন, সত্যি কথা বলতে একটা জিনিস আমার একেবারেই ভালো লাগে না একুশে পদক বা স্বাধীনতা পদকের জন্য কেন একজন শিল্পীকে অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে?

সরকারের কি চোখ নেই? উনারা কি দেখেন না যে, কাদের একুশে পদক দেওয়া যায়? অ্যাপ্লিকেশন করলে তবেই টনক নড়বে? এফডিসি তো সরকারি প্রতিষ্ঠান, সরকার যখনই আসে তখনই তো চলচ্চিত্র নিয়ে নানা উন্নয়নের কথা বলে। তাহলে কেন একজন গুণী শিল্পীকে নিজের স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে হবে? মা এখনো একুশে পদক পাননি। অনেকে আমাকে বলে অ্যাপ্লিকেশনের কথা; আমি বলি, ‘কেন করব? উনারা কি জানেন না যে, একজন আনোয়ারা বাংলাদেশে আছেন?’ সোনালি যুগের শিল্পীদের এই মূল্যায়নটা সরকারের নিজ থেকেই করা উচিত। সরকার যদি মূল্যায়ন না করে, তবে দেশের জনগণ কীভাবে করবে?

প্রশ্ন : পর্দার বাইরে ঘরের ভেতরের সাধারণ ‘আনোয়ারা’ মানুষটা ঠিক কেমন?

মুক্তি : পর্দার বাইরে আমার মা ভেতর থেকে ভীষণ নরম একটা মানুষ। ধরেন, আপনি আপনার জীবনের কোনো কষ্টের কথা আমার মাকে বলছেন; আপনি স্বাভাবিকভাবে বলে যাচ্ছেন, কিন্তু মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখবেন উনি অঝোরে চোখের পানি ফেলছেন।

মা সারাজীবন সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেছেন। আমার চাচা, ফুফু, খালা, মামা সবাইকে মা লেখাপড়া করিয়েছেন, বিয়ে দিয়েছেন। আমার দাদি-দাদা মাকে বড় বউ হিসেবে ভীষণ ভালোবাসতেন। এখনো আমার ফুফু-চাচারা মাকে ছাড়া কিছু বোঝেন না। এখনো মা তাদের শাসন করেন এবং ভুল দেখলে বকা দেন, ওনারাও তা মাথা পেতে নেন।

আমার বাবা প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। আমার কোনো ভাই-বোন বা স্বামী নেই, বাবাও চলে গেছেন; তাই এখন আমি নিজেই আমার সংসারের বটগাছ। আমার মেয়ে কারিমা ইসলাম দরদী আমার বাবা ও মায়ের অনেক সেবা করেছে। ও একেবারেই মা আর নানু ছাড়া কিছু বোঝে না। এখনো বাসার কলিংবেল বাজলে মা মাঝে মাঝে ভুলে গিয়ে বলেন, ‘দরজা খোলো, দেখো তোমার বাবা বোধহয় বাজার নিয়ে আসছে।’ তখন খুব খারাপ লাগে, কিন্তু এটাই তো জীবন।

প্রশ্ন : আপনার নিজের বর্তমান ভাবনা, কাজ এবং সামাজিক ব্যস্ততা নিয়ে কিছু বলুন।

মুক্তি : আব্বা-আম্মার অসুস্থতার কারণে আমার প্রোডাকশন হাউজের কাজ এবং বুটিকসের কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পুরোপুরি বাবা-মায়ের সেবায় সময় দিয়েছিলাম। এখন ধীরে ধীরে প্রোডাকশন হাউজ থেকে আবার নাটক তৈরি শুরু করব; সুযোগ হলে সিনেমাও বানাব। নিজের জন্য ভাবার সময় কখনো পাইনি, পার্লারে যাওয়া বা রূপচর্চা করাও হয় না পরিবারের দায়িত্ব পালন করতেই ভালো লাগে।

পাশাপাশি আমি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভীষণ ভালোবাসি; বন্যা কিংবা শীতে মানুষের কাছে ছুটে যাই। তবে লোকদেখানো সাহায্য আমি পছন্দ করি না। সামাজিক ও সাংগঠনিক কাজের অংশ হিসেবে বর্তমানে আমি ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নিরাপদ সড়ক চাই-এর কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লার দাউদকান্দির উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টারের যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের চলচ্চিত্র বিষয়ক সম্পাদক, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ সোশ্যাল হিউম্যান রাইটস কেন্দ্রীয় কমিটির জুরি বোর্ডপ্রধান, ফাইটার কারাতে ক্লাব ঢাকার জেনারেল সেক্রেটারি এবং লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা এলিট রয়্যালের ক্লাব সভাপতি হিসেবে নিয়মিত যুক্ত রয়েছি। সবার দোয়ায় পরিবার নিয়ে ভালো আছি, আলহামদুলিল্লাহ।