পচেফস্ট্রুমে গতকাল (বুধবার) তাওহীদ হৃদয় যে মহাকাব্য লিখেছেন সেটি এখন সবারই জানা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তামিম ইকবালের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে তিনশোর্ধ্ব রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস উপহার দিয়ে এখন ভাসছেন অভিনন্দন বন্যায়।
তবে হৃদয় থামতে চান না এখানেই। জাতীয় দলের জার্সিতেও একদিন ঠিক এমন একটি রূপকথার ইনিংস খেলার বুকভরা আশা দেখছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
ইতিহাস গড়া এই ট্রিপল সেঞ্চুরির পর নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন ও আত্মবিশ্বাসী বার্তায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হৃদয় বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, এই ইনিংস আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। অসংখ্য শুভকামনা পেয়েছি এখনো পাচ্ছি। সবাইকে ধন্যবাদ।’
নিজের এই অর্জনের পেছনের মূল অনুপ্রেরণার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচের ট্রফি নিয়ে বারবার মনে হচ্ছিলো কোনো একদিন এমন একটি ইনিংস জাতীয় দলের হয়ে খেলবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ এবং আমার মায়ের দোয়া থাকলে সব সম্ভব।’
হৃদয়ের এমন মারকাটারি ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সেই রূপকথা রচিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে চার দিনের এক ম্যাচে। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দল যখন কিছুটা চাপে, তখন চতুর্থ ও শেষ দিনের সকালে ২২৫ রান নিয়ে ক্রিজে ছিলেন তিনি। বাকিরা যখন একের পর এক সাজঘরে ফিরছেন, তখন একপ্রান্ত আগলে রেখে পেসার রেজাউর রহমান রাজাকে সঙ্গে নিয়ে রীতিমতো ঝড় তোলেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
তামিম ইকবালের ২০২০ সালের ৩৩৪ রানের রেকর্ড ইনিংসকে পেছনে ফেলে ৪৮১ বলে চোখ জুড়ানো ৩৫০ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। তার এই ঐতিহাসিক ট্রিপল সেঞ্চুরির সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৬৭৬ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ গড়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি শেষ হয় ড্রয়ে। তবে হৃদয়ের এই রেকর্ড ভাঙা ইনিংস দেশের ক্রিকেটের উঠোন রাঙিয়ে রেখেছে এক সোনালী আলোয়।