ট্রিপল সেঞ্চুরি করেই ছাড়ালেন তাওহীদ হৃদয়

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

ডাবল সেঞ্চুরিতেই থামেননি তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেই ছাড়লেন তিনি। আর স্বপ্ন পূরণ হলো তার ৬ বছর আগে যে মাঠে যুব বিশ্বকাপ জিতেছিলেন সেই পচেফস্ট্রুমে। এটি বাংলাদেশের হয়ে দেশের বাইরে প্রথম তিন শ রান করার ব্যক্তিগত রেকর্ডও।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য বেশ কঠিন ছিল। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা ৫১২ রান করে। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ফলোঅনের শঙ্কায় পড়ে সফরকারীরা। ৭৮ রানেই তিন উইকেট হারায়। মাহমুদুল হাসান জয়, পারভেজ হোসেন ইমন ও নাঈম শেখ দ্রুত ফিরে গেলে দলের সামনে বিপদের শঙ্কা বাড়ে।

সেই জায়গা থেকেই গল্পটা নিজের নামে লেখেন হৃদয়। দ্বিতীয় দিনের শেষে ৭৫ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটার তৃতীয় দিনে জাকের আলীর সঙ্গে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। জাকের ৯৪ রানে ফিরে গেলেও থামেনি হৃদয়ের ব্যাট। দিন শেষে ২০৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

আজ চতুর্থ দিনেও একই ধারাবাহিকতায় ব্যাট করেছেন হৃদয়। অন্য প্রান্তে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৮৭ রানে আউট হওয়ার পর নাঈম হাসান ও হাসান মুরাদও দ্রুত বিদায় নেন। এরপর নবম উইকেটে রেজাউর রহমান রাজাকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন তিনি। এই জুটিতে লিডের দেখাও পায় বাংলাদেশ 'এ' দল।

২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাকিবুল হাসান ট্রিপল সেঞ্চুরির জন্য তামিম ইকবালকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। ফাইল ছবি

এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণও। ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে শুধু নিজের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেননি, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসেও নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেন হৃদয়। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হৃদয়ের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ২১৭ রান। সেই রেকর্ডকে অনেক পেছনে ফেলে এবার ৩০০-এর ঘরে পৌঁছেছেন তিনি। দেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার কীর্তি আগে ছিল রকিবুল হাসান ও তামিম ইকবালের। তবে দেশের বাইরে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের ট্রিপল সেঞ্চুরি ছিল না। হৃদয়ের হাত ধরে সেই অপেক্ষারও অবসান হলো।

ইনিংসটির আরেকটি বিশেষত্বও আছে। ৩০০ রানে পৌঁছাতে হৃদয় খেলেছেন ৪৫০ বল। বাংলাদেশের ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেটে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ড রকিবুল হাসানের ৬১১টি। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন খেলেছেন ৪৪৮ বলের ইনিংস। হৃদয় এবার মোসাদ্দেককে ছাড়িয়ে নিজেই দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত