গাজীপুর

৮ হাজার টাকার চুক্তিতে হত্যা ও গুম করা হয় সৌরভকে

একদিকে স্ত্রীর প্রেম, অন্যদিকে প্রতিশোধের আগুন। সেই আগুনেই আপন শ্যালক সৌরভ আহমেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রবিউল ইসলাম। মাত্র ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে সৌরভ আহমেদকে (২০) হত্যার চুক্তি করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে তাঁকে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের রাজৈরে নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর পরিচয় ও প্রমাণ গোপন করতে মরদেহ টুকরো টুকরো করে একটি ডোবার পানিতে কচুরিপানার নিচে ফেলে দেওয়া হয়।

প্রায় এক মাস চেষ্টা করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার একটি ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরনের কাপড় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সৌরভ। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে মা কাকলী বেগম সদর থানায় অভিযোগ করেন। নিখোঁজের ঘটনাটি তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে। পাশাপাশি সৌরভের পারিবারিক বিরোধ এবং নিখোঁজ হওয়ার আগে ও পরে তাঁর গতিবিধি খতিয়ে দেখা হয়।

তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের সঙ্গে রবিউলের স্ত্রী নুপুরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রবিউল প্রতিশোধের পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ আরও জানায়, সৌরভকে হত্যার জন্য রবিউল শাহিনের সঙ্গে চুক্তি করেন। দরদাম হয় মাত্র ৮ হাজার টাকা। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী সৌরভকে কৌশলে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। গত ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে রবিউল, শাহিনসহ চারজন সৌরভকে রাজৈর থানার হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দী এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে যান। সেখানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ একাধিক টুকরো করে ডোবার পানিতে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ রবিউলকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেখানো স্থান থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরনের কাপড় উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর বলেন, হত্যাকাণ্ডে মোট চারজন জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ও শাহিন আদালতে স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রেম ও পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে রবিউল এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। হত্যার জন্য তিনি শাহিনকে ৮ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া করেন।