হাইটেক পার্কে স্থাপিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তার ফি বাবদ বিদেশে টাকা পাঠানোর সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে নির্ধারিত সীমার মধ্যে এসব অর্থ প্রতিষ্ঠানের টাকার হিসাব থেকে বিদেশে পাঠাতে পারবেন অনুমোদিত ব্যাংকগুলো।
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে আমদানি করা যন্ত্রপাতির মূল্যের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ এবং চলমান প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগের বছরের আয়কর রিটার্নে ঘোষিত বিক্রয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তার ফি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিদেশে পাঠানো যাবে।
এর আগে এসব অর্থ বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব ব্যবহারের সুযোগ ছিল। এখন বিদেশে অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে টাকার হিসাব থেকেও এসব অর্থ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে অর্থ পাঠানোর আগে ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো আয় নেই। পাশাপাশি প্রযোজ্য কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যথাযথভাবে কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
নির্ধারিত ৬ শতাংশ সীমার বেশি রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তার ফি পাঠাতে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) আগাম অনুমোদন নিতে হবে। একইভাবে অন্যান্য বৈধ ও এ ধরনের ব্যয়ের জন্য বিদেশে টাকা পাঠাতেও অর্থের পরিমাণ যাই হোক, বিএইচটিপিএর অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এ ছাড়া বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুসরণ করতে হবে। গ্রাহকের পরিচয় ও তথ্য যাচাই, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএইচটিপিএকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রতিবেদন দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারের বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানাতে অনুমোদিত ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।