এক ছাদের নীচে পুরো শহর

সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই চোখ আটকে গেল চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের বিশাল তোরণে। ভেতরে কয়েক কদম এগোলেই চট্টগ্রামের প্রাণখ্যাত বন্দর, ঠিক পাশেই মেজবানের আবহ। খানিক দূরে জব্বারের বলী খেলার মঞ্চ। এরপর দেয়ালজুড়ে চট্টগ্রামের পুরোনো সব আদি নাম। পাশেই নেভালের সেই চেনা গরম গরম পেঁয়াজু। হাত বাড়ালেই যেন পতেঙ্গা সীবিচের হাওয়া, আর সিআরবির শিরীষতলা। বাদ পড়েনি প্রাণের আড্ডাস্থল চায়ের টং দোকানও! এসবের মাঝে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে ঝুলছে শতবর্ষ আগের দুর্লভ সব চিত্রকর্ম।

বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় চট্টগ্রাম নগরীর নেভি কনভেনশন সেন্টারটা সেজেছিল ঠিক এভাবেই। বন্দরনগরীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাবার ও মানুষের আবেগকে একই সুতোয় গাঁথতেই আয়োজন করা হয় 'সিলন আমার শহর চট্টগ্রাম' ক্যাম্পেইনের মেগা ইভেন্ট। কনভেনশন সেন্টারের তৃতীয় তলা নান্দনিক সব দেয়ালচিত্রে সাজিয়ে তোলা হয় পুরো শহরকে।

বাংলাদেশের প্রতিটি শহরের নিজস্ব রূপ ও গল্পকে ছড়িয়ে দিতে সিলন টি চালু করেছে ‘সিলন আমার শহর’ ক্যাম্পেইন। আর প্রথম শহর হিসেবে বেছে নেওয়া হয় বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে। এই শহরকে কেন্দ্র করে চলে বিশেষ প্যাকেজিং, উপহার আর ডিজিটাল কনটেস্ট। যার মাধ্যমে উঠে আসে শহরটিকে ঘিরে মানুষের অজস্র স্মৃতি ও অনুভূতির গল্প। মেগা ইভেন্টে বন্দরনগরীর ইতিহাস, সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও বৈচিত্র্যময় খাবার অভিজ্ঞতামূলক উপস্থাপনায় তুলে ধরার পাশাপাশি ছিল নান্দনিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, সুধীজন ও বিনোদন জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় পরিবেশিত বিভিন্ন পারফরম্যান্স ও গল্পকথন উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করা বিশিষ্ট ছয় ব্যক্তিত্বের হাতে তুলে দেওয়া হয় 'সিলন আমার শহর বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্মাননা'। সম্মাননা পাওয়া গুণীজনেরা হলেন, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আবুল মোমেন, নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি জেরিনা হোসেন, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার ও লেখক হারুন রশীদ। 

আবুল খায়ের গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম শুধু বাণিজ্যিক রাজধানীই নয়, এ মাটির রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। সিলন চা সব সময়ই মানুষের খাঁটি আবেগের সাথে জড়িয়ে থাকতে চায়। এই জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে আমরা চাটগাঁইয়া ঐতিহ্য, ভাষা এবং এই শহরের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসাকে দেশজুড়ে তুলে ধরতে চেয়েছি।

অনুষ্ঠানে এসেছেন ক্যাম্পাসের গল্প নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে জনপ্রিয় 'ইয়ারাতা' টিম। টিমের সদস্য বিন ইয়ামিন বলেন, "আমাদের কাছে অনুষ্ঠানটা দারুণ লেগেছে। পুরো টিমকে তারা আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এক ছাদের নীচে পুরো শহরকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী সাবিলা নূর বলেন, চট্টগ্রাম আমার নিজের শহর। জন্ম আমার এই চট্টগ্রামে। ঢাকায় থাকলেও চট্টগ্রামের আবহেই থাকি।

আবুল খায়ের গ্রুপের ম্যানেজার (ব্র্যান্ড) ইফতেখারুল আলম বলেন, শহরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আবেগ, তাদের বেড়ে ওঠার স্মৃতি এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে আত্মার যে গভীর সম্পর্ক, তা খুঁজে বের করাই এই মেগা ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য। 

তিনি বলেন, এই মেগা ক্যাম্পেইনটি মূলত চট্টগ্রাম শহরকে নতুন আঙ্গিকে দেখার একটি প্রয়াস। শহরের প্রতিটি অলিগলি এবং মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া ছোট-বড় নানা ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের ইতিহাস ও বহু অজানা গল্প এখনো আড়ালে রয়ে গেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে সেগুলোকে সবার সামনে তুলে আনার এক আন্তরিক চেষ্টা চালানো হয়েছে।