গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে রেকর্ড ভেঙে ১২৩ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে ফরাসি উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলাকে অ্যানফিল্ডে ভিড়িয়েছে লিভারপুল। তবে তার রেকর্ড ট্রান্সফার ফি বা ব্যক্তিগত সাফল্যের অহংকার নয়, বরং দলের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতাই লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে।
ফরাসি এই তারকার সঙ্গে প্রথম বৈঠকের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে লিভারপুল বস স্বীকার করেছেন যে, বিশ্বমানের একজন ফুটবলারের কাছ থেকে যেমন আত্মকেন্দ্রিক আচরণ প্রত্যাশিত ছিল, বারকোলা ছিলেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
গত দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলের মুখোমুখি হওয়ার সুবাদে অলরেডদের স্টেডিয়াম ও ক্লাবের পরিবেশ সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট ধারণা ছিল বারকোলার। পিএসজির জার্সিতে টানা দুইবার ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা এবং ১৩টি বড় ট্রফি জেতার পরও তার মাঝে কোনো অহংকার কাজ করেনি। বরং দলের প্রয়োজনে ডান দিক, বাঁ দিক কিংবা যেকোনো পজিশনে খেলতে প্রস্তুত থাকার কথা জানান তিনি।
নতুন শিষ্য বারকোলাকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে লিভারপুল কোচ ইরাওলা বলেন, ‘ব্র্যাডলির ক্ষেত্রে আমার কখনোই এমন মনে হয়নি যে তাকে দলে ভেড়ানোর জন্য আমাকে কোনো বাড়তি বোঝানোর প্রয়োজন আছে। কখনো কখনো যখন আপনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন, তখন মনে হয় আপনার আইডিয়া বা ক্লাবকে তাদের কাছে বিক্রি করতে হবে।’
ফরাসির তারকার মানসিকতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে কোচ আরও যোগ করেন, ‘যেহেতু সে গত দুই মৌসুমে লিভারপুলের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা পেয়েছে, তাই সে স্টেডিয়াম এবং ক্লাবকে গভীরভাবে অনুভব করতে পেরেছিল এবং সে সত্যিই খুব নিশ্চিত ছিল। সে যতগুলো প্রশ্ন করেছিল, তার সবই ছিল ফুটবল এবং ট্যাকটিকস নিয়ে। সে কোন পজিশনে খেলবে, তা নিয়ে কথা বলেছে।’
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় সাফল্যকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ইরাওলা সংবাদমাধ্যমে আরও বলেন, ‘ডান দিক কিংবা আক্রমণভাগে খেলার ব্যাপারে সে দারুণ খোলামেলা ছিল, যাতে আমরা দল হিসেবে আরও ভালো কাজ করতে পারি। বিষয়টি কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন বা 'আমি কীভাবে উজ্জ্বল হব' এমন ছিল না। ব্যাপারটি ছিল দলগত। আমার এটি খুব ভালো লেগেছে।’
লুইস দিয়াজ ক্লাব ছাড়ার পর থেকেই বারকোলাকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় রেখেছিল লিভারপুল। আগামী শুক্রবার ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লিভারপুলের জার্সিতে অভিষেক হতে পারে এই ফরাসি তারকার।