ক্রিকেট-দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক একজন পরিচালকসহ ৩ জনকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত মঙ্গলবার এই খবর প্রকাশের পর এক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেন বিসিবির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা শেষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বোর্ডের দুর্নীতিবিরোধী বিভাগ।
বিসিবি সর্বশেষ ৩ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর এই কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে এটিই শেষ নয়। সামনে এমন আরও অনেক ঘটনার তথ্য প্রকাশ হবে বলে দাবি তার, ‘এখানেই কিন্তু শেষ নয়। সামনে এমন আরও অনেক কিছু দেখবেন। তদন্তকারী দলের তদন্ত চলছে। খুব দ্রুত সেগুলো সম্পর্কেও জানতে পারবেন।’
ক্রিকেট দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথম ধাপে আরও পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে বিসিবি। অর্থাৎ সব মিলিয়ে দুই দফায় ৮ জনকে কাঠগড়ায় তুলেছে ক্রিকেট বোর্ড। এদের অধিকাংশের বিপক্ষে অভিযোগ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে। এই তালিকায় এবার একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের নামও যুক্ত হতে যাচ্ছে।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল চলতি বছর বিপিএল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে পরামর্শের জন্য গত শনিবার ৩টি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তিনি। সর্বশেষ বিপিএলে ৬টি দল অংশ নিলেও মূলত রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, রংপুর রাইডার্স ও ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রতিনিধিদেরই এই বৈঠকে ডাকা হয়। এর কারণও অবশ্য জানান একজন বোর্ড পরিচালক। যেহেতু নতুন করে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চুক্তি করেনি এবং পুরনোদের মধ্যে এই ৩টি ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই, এজন্যই তাদের সঙ্গে বসেন তামিম। বিসিবি সভাপতিও গত বৃহস্পতিবার মিরপুরে একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের যেসব বর্তমান ফ্র্যাঞ্চাইজি আছে, আমরা তাদের ডেকে কথা বলেছি। আমরা তাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, আমরা কী চাই এবং কী চাই না। যাদের সঙ্গে কোনো চুক্তিই নেই, তাদের সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ নেই।’
বিসিবির সঙ্গে চুক্তি থাকা এবং সেদিন তামিমের সঙ্গে বৈঠক করা ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্র্তৃপক্ষের সদস্যদের মধ্যেই একজনের বিপক্ষে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে বোর্ডের দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট। এই অনুসন্ধানের সঙ্গে জড়িত বোর্ডের অন্য আরেকজন কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ করতে না চেয়ে বলেন, ‘গত বিপিএলে সিলেট পর্বে আকুর প্রতিনিধিদল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের (কাগজ-কলমে প্রধান নির্বাহী) ফোন জব্দ করে। সেটা তখনই ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়। যদিও তখন তিনি আমাদের সার্বিকভাবে সাহায্য করতে গড়িমসি করেন। পরে তার মোবাইল ফরেনসিক করানো হয় এবং এর একটি প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়েছে।’
এই প্রতিবেদন এখনো জমা পড়েনি। বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের চেয়ারম্যান অ্যালেক্স মার্শালের হাতেই আছে। ইংল্যান্ড থেকে আগামী বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফেরার কথা আছে তার। এরপর প্রক্রিয়া মেনে বিসিবির আইনজীবীদের কাছে সেটা হস্তান্তর করবেন তিনি। এই প্রতিবেদনে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন, ‘তার বিষয়ে বেশ কিছু সমস্যা আছে। এসব নিয়ে বোর্ডের কাছে একটি পর্যবেক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর বোর্ডের সিদ্ধান্ত। কী ধরনের সাজা হবে, সে জন্য বিসিবির আইনজীবীরা আছেন, সভাপতি আছেন, তারা আইনানুযায়ী পর্যালোচনা করবেন।’
এর আগে গত ৭ মে একজন ক্রিকেটারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ক্রিকেট দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ আনে বিসিবি। এদের মধ্যে বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরে ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘এক্সক্লুশন অর্ডার’ জারি হয়। অর্থাৎ তাকে দেশের ক্রিকেট থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে বিসিবি। ক্রিকেটার অমিত মজুমদারসহ অন্য চারজনের সামনে অভিযোগের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে চিটাগং রয়্যালসের লজিস্টিক ম্যানেজার লবলুর রহমান ছাড়া আর কেউই এই চ্যালেঞ্জ করেননি।
এদিকে সর্বশেষ যে ৩ জনের ওপর দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে ক্রিকেট বোর্ড, তারাও আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আপত্তি জানাতে পারবেন। এ নিয়ে বিসিবির একজন পরিচালক বলেন, ‘যদিও ব্যাপারগুলো বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট ও আইনজীবীরা দেখছেন। তবে এটা বলতে পারি, অভিযুক্তদের আপত্তি পর্যালোচনা করতে বিসিবি একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। সেখানে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।’