পরাজয়ে রূপকথার সমাপ্তি উইলিয়ামস বোনদের

চার বছর আগে যে মঞ্চকে বিদায়বেলা ভেবেছিলেন টেনিসের দুই মহাতারকা, ঠিক সেই আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামেই আরও একবার জাদুকরী প্রত্যাবর্তনে খবরের শিরোনামে এলেন সেরেনা ও ভেনাস উইলিয়ামস। স্কোরবোর্ডের নিয়মে ম্যাচটা হয়তো অস্ট্রেলিয়ার মায়া জয়েন্ট এবং তাইওয়ানের চ্যান হাউ-চিং জুটির পক্ষে গেছে, কিন্তু নিউ ইয়র্কের ফ্লাশিং মেডোসের আসল জয়টা ছিল শুধুই উইলিয়ামস বোনদের।

ইউএস ওপেনের দ্বৈত ইভেন্টের প্রথম রাউন্ডে গতকাল (শুক্রবার) মায়া জয়েন্ট এবং চ্যান হাউ-চিংয়ের কাছে ৩-৬, ৭-৬(৬), ৭-৬(১০-৭) ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে কিংবদন্তি এই জুটিকে, তবুও ২৩ হাজার দর্শকের গ্যালারি হারের হতাশার চেয়ে টেনিসের এই দুই আইকনের উদযাপনকেই বড় করে তুলেছিল।

৪৪ ও ৪৬ বছর বয়সেও টেনিস র‍্যাকেট হাতে হাসিমুখে কোর্টে নেমে কোটি ভক্তের শৈশব-কৈশোর ফিরিয়ে দিলেন সেরেনা ও ভেনাস। হারের হতাশাকে মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দিয়ে গ্যালারির উন্মাদনা এই প্রত্যাবর্তনকে রূপ দিয়েছিল টেনিস ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন এক অধ্যায়ে। 

ম্যাচের পুরোটা সময় জুড়ে গ্যালারির দৃষ্টি ছিল উইলিয়ামস বোনদের উপস্থিতির ওপর। সেরেনা কোর্টে নেমেছিলেন তার ইউএস ওপেন একক ও দ্বৈত জয়ের স্মারক প্যাচ লাগানো এক ঝলমলে বোম্বার জ্যাকেট পরে, আর তার পাশে ভেনাস ছিলেন হাতে ম্যাচিং পিংক ব্যাগ নিয়ে। সেরেনার মেয়ের অনুরোধে হওয়া এই প্রত্যাবর্তন পার করেছে দুই দশকেরও বেশি সময়ের সোনালী ইতিহাস, ১৪টি গ্র্যান্ড স্লাম ডাবলজ শিরোপা, দুটি ইউএস ওপেন মুকুট, তিনটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক এবং দুই বোনের ঝুলিতে থাকা আরও ৩০টি গ্র্যান্ড স্লাম একক শিরোপার ঐতিহ্য।

চতুর্দশ বাছাই মায়া জয়েন্ট এবং চ্যান হাউ-চিং শুরু থেকেই দর্শকদের বৈরী ও আবেগঘন পরিবেশের মুখোমুখি হন। প্রথম সেট হাতছাড়া হওয়ার পর দ্বিতীয় সেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ গড়ায় তৃতীয় সেটে। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই লড়াইয়ে তরুণ জুটির বিরুদ্ধে দুর্দান্ত লড়েও শেষ পর্যন্ত সুপার টাইব্রেকের রোমাঞ্চে হেরে যায় উইলিয়ামস বোনদের জুটি।

ম্যাচ শেষে জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে কোর্টে তরুণ অস্ট্রেলিয়ান তারকা জয়েন্ট বলেন, ‘এমন কিংবদন্তিদের বিরুদ্ধে খেলতে পারাটা সত্যিই ভীষণ বিশেষ কিছু।’ 

নিজের ছোটবেলার আইডলদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে ফ্লাশিং মেডোসে দাঁড়িয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটা ভেবে আমি একদম বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। তারা দুজনই আমার আদর্শ। আমি মিশিগানে বড় হয়েছি, তাই সবসময় তাদের অনুকরণ করতাম। তাদের বিপক্ষে দুইবার খেলতে পারাটা দারুণ ব্যাপার।’ 

উইলিয়ামস বোনদের এই পুনঃমিলন অবশ্য খুব সহজে হয়নি। এর আগে উইম্বলডনে একক ম্যাচে সেরেনার হাঁটুতে চোট পাওয়ায় দ্বৈতের ড্র থেকে নামতে বাধ্য হয়েছিল তারা। ফলে নিউ ইয়র্কই হয়ে ওঠে সেই কাঙ্ক্ষিত মঞ্চ। এর আগে সিনসিনাটিতে মার্তা কোস্ত্যুক ও পেইটন স্টার্নসের কাছে হেরে গেলেও, এবারের ইউএস ওপেনে কার্লোস আলকারাজের সঙ্গে মিক্সড ডাবলসের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন সেরেনা। আগামী দিনে এই দুই বোন আবার একসঙ্গে কোর্টে ফিরবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে ফ্লাশিং মেডোসের সেই রাতে সেরেনার চেনা সেই আক্রোশভরা মুষ্টিবদ্ধ হাত আর ভেনাসের নিবেদিত উপস্থিতি দর্শকদের বহু দিন মনে রাখার মতো এক রাত উপহার দিয়েছে।