মরিনহোর চোখে এমবাপ্পে-ভিনিরা বড্ড ‘নির্বোধ’

পুনরায় রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে ফিরে লা লিগায় উড়ন্ত সূচনা পেলেও হোসে মরিনহোর দল হোঁচট খেতেও বেশি একটা সময় নেয়নি। সেভিয়ার লা কার্তুজায় রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে গতরাতে খেলতে নেমে লিগয় মৌসুমের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পায় লস ব্লাঙ্কোসরা।

পুরো ম্যাচে মাঠের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখলেও শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের অপ্রত্যাশিত এক হারে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রিয়ালকে। ম্যাচের এই আকস্মিক ফলাফলে কেবল ব্যবধানের আক্ষেপ নয়, বরং প্রতিপক্ষের চালাকি ও অভিজ্ঞতার কাছে নিজেদের খেলোয়াড়দের মানসিকতায় কিছুটা ঘাটতি দেখছেন মরিনহো।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রিয়ালের খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত সাধুতা ও মাঠে প্রতিপক্ষের থিয়েট্রিক্যাল বা নাটুকে আচরণের কড়া সমালোচনা করেন পর্তুগিজ এই কোচ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, বেতিসের খেলোয়াড়েরা খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং রেফারিকে প্রভাবিত করতে যেভাবে চতুরতার আশ্রয় নিয়েছে, রিয়ালের ফুটবলাররা সেখানে বেশ ‘বিশুদ্ধ’ ও ‘নির্বোধ’।

প্রতিপক্ষ ও নিজের দলের মানসিকতার এই পার্থক্য ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মরিনহো বলেন, ‘বেতিসের খেলোয়াড়েরা এই দিক থেকে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের চেয়ে অনেক বেশি চতুর। রিয়ালের খেলোয়াড়েরা বেশ বোকাসোকা, নির্বোধ... বেতিসের খেলোয়াড়েরা রেফারিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে, অথচ রিয়ালের খেলোয়াড়েরা যখন কোনো ফাউলের শিকার হয়, যেখানে হলুদ কার্ড প্রাপ্য, তারা সোজা উঠে দাঁড়ায়... যখন আপনি এমন মানসিকতার দলের বিপক্ষে খেলবেন, তখন এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।’

ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের চতুর অভিনয় নিয়ে রসিকতা করতেও ছাড়েননি মরিনহো। ডাগআউটের ঠিক সামনে ঘটিত এক দৃশ্য টেনে এনে তিনি বলেন, ‘আমার বেঞ্চের সামনে ওই ছেলেটি যেভাবে মৃত মানুষের মতো পড়েছিল... আমার তো মনে হয়েছিল অ্যাম্বুলেন্স চলে আসবে, অথচ শেষ পর্যন্ত কোনো অ্যাম্বুলেন্সই আসেনি। এই অর্থেই আমি কথাটা বলেছি।’ 

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রিয়ালের সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে। কিন্তু স্পট কিক থেকে ফরাসি তারকার নেওয়া শট রুখে দেন বেতিসের গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস। ডিফেন্ডার মার্ক বার্তরার বক্সের ভেতরে অবৈধভাবে ঢুকে পড়ার অভিযোগ ও ভিএআর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের চাকা আর ঘোরেনি।

যদিও দলের এমন হার এবং বিতর্কিত মুহূর্তগুলো নিয়ে হতাশা ছিল, তবুও খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি কোচ। রক্ষণভাগের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে মরিনহো জানান, হারের বেদনা সত্ত্বেও দলের খেলোয়াড়দের মনোভাব নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই।

এই পরাজয় রিয়ালের জন্য যেন বড় এক শিক্ষা হয়ে রইল। দীর্ঘ লিগ লড়াইয়ে কেবল আক্রমণ বা বল পজিশন ধরে রাখাই নয়, মাঠের কৌশলগত ধূর্ততা ও নিখুঁত ফিনিশিং কতটা জরুরি, সেটারই এক চরম বাস্তব রূপ দেখল মরিনহোর রিয়াল।