ড্যাফোডিল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ‘গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি’ অনুষ্ঠিত

ড্যাফোডিল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের (ডিটিআই) শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অর্জন ও সাফল্য উদযাপনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ড্যাফোডিল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে গ্র্যাজুয়েশন উদযাপন ২০২৬’।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ড্যাফোডিল প্লাজার ৭১ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ফরিদা ইয়াসমিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (বিটিইবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুহুল আমিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ ও ড্যাফোডিল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

ড্যাফোডিল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের (ডিটিআই) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেন রুবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (শিল্পখাত ও প্রশিক্ষণ সমন্বয়) প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দিন এবং ড্যাফোডিল গ্রুপের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ ইনস্টিটিউশনসমূহের নির্বাহী পরিচালক রথীন্দ্র নাথ দাস।

এবারের গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনিতে ১৫০ জন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে মেধাতালিকায় সেরা ২০ জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে গোল্ড মেডেল, একজনকে চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড এবং দুজন শিক্ষার্থীকে সফল অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনির মধ্য দিয়ে আপনাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হলো। এখন আপনাদের অর্জিত শিক্ষা দেশ ও দশের কল্যাণে কাজে লাগানোর পালা। আপনাদের অর্জিত শিক্ষা সমাজ ও দেশের কোনো কাজে না এলে সেটা হবে অনেক বড় অন্যায় এবং আপনাদের বাবা-মা, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টার বিরাট অপচয়।

তিনি বলেন, ‘সুতরাং, আজ আপনারা প্রতিজ্ঞা করুন, আপনারা যা পেয়েছেন, তার বহুগুণ দেশকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। দেশকে ভালোবাসবেন, দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবেন। সেই সঙ্গে নতুন বাংলাদেশ গঠনেও অবদান রাখবেন। আর তা সম্ভব কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতার উন্নয়নের মাধ্যমে।’

কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে কোনো দেশ যে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে পারে, তার উদাহরণ চীন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ হবে দক্ষতার বাংলাদেশ। এ মুহূর্তে দেশে এবং বিদেশে, বিশেষ করে জাপানে, প্রচুর কারিগরি দক্ষ লোকের চাহিদা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জাতি হিসেবে সৌভাগ্যবান যে, আমাদের ৬৫ শতাংশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রচুর দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে এ চাহিদা মেটাতে পারি।’

ড্যাফোডিল পরিবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ড্যাফোডিল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট শিক্ষা ব্যবস্থায় উদ্ভাবনকে অনুঘটক মনে করেছে এবং এর একাডেমিক সিস্টেমের সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপান্তর নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আধুনিক ফ্ল্যাগশিপ ইনস্টিটিউট হিসেবে বিকাশের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। অ্যাক্সেস এবং ইক্যুইটির প্রতি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে এ প্রতিষ্ঠান এবং উল্লেখযোগ্যভাবে শিক্ষাদান, শেখার, গবেষণার মান এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক আর্থ-সামাজিক চাহিদা মেটাতে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেড জেনারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সব সহায়তামূলক পরিষেবা ও সুবিধায় অ্যাক্সেস নিশ্চিত করে আমরা একটি ব্যাপক শিক্ষামূলক ইকোসিস্টেম তৈরি করার চেষ্টা করছি।’