মালিকানার বিতর্কিত ধারা বাদ দিয়ে পাসের সুপারিশ

ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। এতে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে কমিটি সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মঈনুল ইসলাম খান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাইফুল আলম ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দুর্বল ব্যাংকগুলোর সাবেক মালিকদের পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার বিতর্কিত ধারা বাতিল করে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। এই সংশোধনীর মাধ্যমে গত এপ্রিলে পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’-এর ১৮(ক) ধারাটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে। বাতিল হতে যাওয়া ওই ধারায় বলা হয়েছিল একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর সাবেক পরিচালক বা মালিকরা সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া ফান্ডের মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ এককালীন পরিশোধ করে এবং বাকি অংশ ১০ শতাংশ সুদে ২ বছরের মধ্যে পরিশোধের শর্তে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বা মালিকানা ফেরত নিতে পারবেন।

এর আগে, মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব এবং অন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ জারি করে। অধ্যাদেশের অধীনে সংকটগ্রস্ত পাঁচ ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।

তবে, ২০২৬ সালে আইনটি পাস করার সময় ১৮(ক) ধারাটি বহাল রাখায় বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই এটাকে শিথিল শর্তে সাবেক মালিকদের পুনরায় ব্যাংক দখলের আইনি ফাঁকফোকর হিসেবে চিহ্নিত করেন। নতুন সংশোধনী বিলটি এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। বিলটির উদ্দেশ ও কারণ নিয়ে বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী জানান, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ওই ধারার পূর্ণ শর্ত পূরণ করে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বাতিল করা সঙ্গত ও যুক্তিযুক্ত।