সাভারের আশুলিয়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গর্ভজাত সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (৪২), তার স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩৩)। নাজমা একই উপজেলার বড় মাগুড়া পাকপাড়া এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে। আলমগীর হকারি করে পান-সিগারেট বিক্রি করতেন, তার স্ত্রী স্থানীয় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। তারা আশুলিয়ায় মধ্য জামগড়া এলাকায় হাজি হযরত আলীর দ্বিতীয় তলায় থাকতেন। গত ৯ আগস্ট কক্ষটি তারা ভাড়া নিয়েছিলেন। নিহত নাজমার বোন শাপলা আক্তার বলেন, ২০২২ সালে আলমের সঙ্গে নাজমার বিয়ে হয়। নাজমার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। নাজমা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরে। আমাদের ধারণা, বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনাটি ঘটেছে। শুক্রবার কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখে দুজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছে। তার পেটের সন্তানও বের হয়ে গেছে। বোন ও ভগ্নিপতিকে মেরে ফেলা হয়েছে দাবি করে শাপলা আক্তার বলেন, আমার সঙ্গেই নাজমা পোশাক কারখানায় চাকরি করত এবং ভগ্নিপতি আলম পান-সিগারেট হকারি করে বিক্রি করতেন। তবে ঠিক কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তারা জানেন না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।
আশুলিয়া থানার এসআই রাসেল হোসেন জানান, লাশ উদ্ধারের সময় নিহত আলমগীরের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ছিল। এতে ধারণা করা হয় শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটনে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ হত্যাকা-ের কারণ ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, নিহত নাজমা আক্তারের বোন শাপলা আক্তার ঘটনাস্থলে এসে বোন ও ভগ্নিপতির লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন। লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।