রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে জোরদার হচ্ছে মার্কিন তৎপরতা

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় দীর্ঘ ও নিবিড় বৈঠক শেষে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের। খবর সিএনএন এর। 

শনিবার ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন উইটকফ ও কুশনার। পরে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নৈশভোজেও অংশ নেন তারা। বৈঠকের কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে ক্রেমলিন। 

বৈঠক শেষে পুতিনের শীর্ষ সহযোগী ইউরি উশাকভ আলোচনাকে 'ফলপ্রসূ' হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা সফরের জন্য 'গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি' নিয়ে এসেছিলেন। যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহ প্রকাশের পাশাপাশি সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য বিভিন্ন পথ নিয়েও তারা আলোচনা করেছেন।

উশাকভ জানান, পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় পাওয়া মতামত ও মূল্যায়ন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে রবিবারের বৈঠকে তুলে ধরবেন উইটকফ ও কুশনার। 

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই পক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য 'গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিকল্পনা' নিয়ে আলোচনা করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসব পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।

মস্কোর পর উইটকফ ও কুশনারের গন্তব্য এখন কিয়েভ। যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের রাজধানীতে এটি হবে তাদের প্রথম সফর।

তবে মার্কিন প্রতিনিধিদের কিয়েভ সফরের সময়ও রাজধানীজুড়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরেও সরাসরি হামলা চালানো হয়। জেলেনস্কি এর আগে জানিয়েছিলেন, বিমান প্রতিরক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকটের কারণে ইউক্রেন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

উইটকফ ও কুশনারের সফরকে কেন্দ্র করে কিয়েভে রুশ হামলায় তিন দিনের বিরতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুতিন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে কোনো বৃহত্তর বা স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে এখনো সমঝোতা হয়নি।

জেলেনস্কিও শনিবার জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের সময় ইউক্রেন মস্কোতে হামলা থেকে বিরত থাকতে প্রস্তুত। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, শনিবারের বাকি সময়সহ রোববার ও সোমবার কিয়েভ মস্কোর ওপর হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত এবং রাশিয়ার কাছ থেকেও একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে ইউক্রেন।

জেলেনস্কি আরও বলেন, তারা উইটকফ ও কুশনারের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং 'গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ' আলোচনার জন্য প্রস্তুত।